রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রমজানের আগে নিত্যপণ্যের বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমদানির পরিমাণ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই বলে জানিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বাড়তি দামের আশঙ্কাও আপাতত দেখা যাচ্ছে না। খুচরা বাজারেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ভূরাজনৈতিক প্রভাবের কারণে মসলার বাজার এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।
নির্বাচন ও পরবর্তী ঈদকে ঘিরে বাজারে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিতে পারে—এমন আশঙ্কা থাকলেও, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এর প্রভাব দামের ওপর পড়বে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সকালের শুরু থেকেই পুরান ঢাকার চকবাজার-মৌলভীবাজার কিংবা বেগমবাজার এলাকায় জমে উঠছে পাইকারি বেচাকেনার হাঁকডাক। অস্থির বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে শুরু হয় ব্যবসায়িক দিন। বাণিজ্যের চিরচেনা প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে বায়ান্ন বাজার তিপান্ন গলির এই শহরে।
আর মাত্র দুই সপ্তাহ পর রমজান। ফলে পাইকারি বাজারগুলো এখন থেকেই জমে উঠতে শুরু করেছে। স্বাভাবিক যোগানের পাশাপাশি বেড়েছে আমদানিও। দেশি পণ্যের সঙ্গে বিদেশ থেকে আমদানি করা খাদ্যপণ্যে সয়লাব পাইকারি বাজার। বিভিন্ন জাতের দেশি ও আমদানি করা মুগ, মসুর, ডাবলি, ছোলা ও কাবলি ছোলার সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছর ব্যবধানে ছোলার আমদানি বেড়েছে ২৭ শতাংশ, মুগ ৩০০ শতাংশ, মসুর ৮৭ শতাংশ, খেজুর ২৩১ শতাংশ এবং চিনি ১১ শতাংশ।
তবে ভারতের সঙ্গে আমদানি বন্ধ থাকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে মসলার বাজারে। দীর্ঘ পথ ঘুরে দেশে আসছে মসলা পণ্য। বর্তমানে ৫ কেজি ভারতীয় এলাচির দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ভারতীয় জিরা মানভেদে প্রতি কেজি ৫৭০ টাকা, ইরানি ও আফগানি জিরা ৭০০ টাকা এবং শ্রীলঙ্কার লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১ হাজার ২৫০ টাকায়।
খুচরা বাজারে রমজানের পণ্য ও মসলার দাম নিয়ে এখনো বড় ধরনের কোনো অভিযোগ নেই। আগামী ১৫ দিনে চাহিদা ও যোগানের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হবে কি না—এ নিয়ে আপাতত খুব একটা উদ্বিগ্ন নন ব্যবসায়ীরা।
প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের সামগ্রিক খাদ্যপণ্যের বাজারে রমজান সামনে রেখে তাই আপাতত কিছুটা স্বস্তির হাওয়া বইছে।
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা