আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ঘোষণা করেছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে রবিবার থেকে দুইদিনব্যাপী লাইভ-ফায়ার নৌ মহড়া চালাবে। এ ঘোষণার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা এব্রাহাম লিঙ্কন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার এবং অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) ইরানকে সতর্ক করেছে, যেকোনো অসুরক্ষিত বা সংঘর্ষমুখী নৌ কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। এতে অন্তর্ভুক্ত ইরানের দ্রুতগতির নৌকা যুদ্ধজাহাজকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজের দিকে পাঠানো। CENTCOM’র মতে, এমন কৌশল সংঘর্ষ, উত্তেজনা ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি তৈরি করে।
মহড়ার সময় লাইভ গোলাবারুদ ব্যবহার করা হবে, তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলে চলবে না, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বক্তব্য: অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি তেহরানে আয়াতুল্লাহ খোমেনির সমাধিতে ভাষণ দেন। তিনি অভিযোগ করেন: ট্রাম্প, নেতানিয়াহু এবং ইউরোপ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে বিশৃঙ্খলা ও বিদ্রোহে পরিণত করার চেষ্টা করছে।সরকারকে জনগণের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে ন্যায়-সুবিচার ভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের কথা শোনা জরুরি।এটি ইঙ্গিত দেয় যে ইরান সরকার অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় শক্ত অবস্থান নিচ্ছে।
কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশসহ আঞ্চলিক প্রভাব
মার্কিন ট্রেজারি নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইরানের সাতজন কর্মকর্তার ওপর।ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যায্য ও সমান অধিকার ভিত্তিক আলোচনা করতে প্রস্তুত, তবে হুমকির ছায়ায় নয়।তুরস্ক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে প্রস্তুত, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংলাপের জন্য সহায়ক হতে পারে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেলের সরবরাহ পথ, যা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার তেল ও গ্যাস বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে প্রণালীতে নৌপথের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে, যার ফলে জ্বালানি আমদানিতে ব্যাঘাত দেখা দিতে পারে।বাংলাদেশি রপ্তানি-আমদানি ও নৌপথ নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণেও উদ্বেগ তৈরি হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উত্তেজনা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ছোট ও মধ্যম পর্যায়ের দেশগুলোর জন্য সতর্কবার্তা, যেখানে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উত্তাপ সরাসরি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও প্রভাব বিস্তার করছে। হরমুজ প্রণালীতে নৌ মহড়া ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বাংলাদেশের জন্য সরাসরি উদ্বেগের কারণ। আগামি কয়েকদিনে পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দেবে তা দেখার বিষয়। রয়টার্স,আল জাজিরা বিশ্লেষণ
রিপোর্টার্স২৪/এসসি