স্টাফ রিপোর্টার: জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা দেশের বাইরে ছিল, তারা এখন আমাদের গুপ্ত বলছে। আমরা কারো কাছে পালাইনি, কোনো আপোষ করিনি। ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ চামড়া শিল্পে বিশ্বব্যাপী নজির স্থাপন করবে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর গ্রিন রোড সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার মাঠে ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে শিল্প সংরক্ষণ ও উন্নয়নে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কারাগারে থেকেও দেশের মানুষের পাশে ছিলাম। তিনি অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও শাপলা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের জনগণের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছে। আমাদের শত শত নেতাকর্মী খুন-গুম হয়েছে, দেশের মানুষ জুলুমে শিকার হয়েছে। তবে আমরা মানুষের পাশে আছি এবং থাকবো ইনশাআল্লাহ।
জামায়াত আমির ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা ভোট চাই মানুষের জন্য, জনগণের দুঃখ-কষ্ট ও সমস্যা সমাধানের জন্য। যারা ভোটের প্রলোভন দেখিয়ে মা-বোনদের সঙ্গে অন্যায় করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা চুপ থাকবো না। জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করবে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, বিএনপি সরকারের ১৫ বছরে যুব সমাজকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে যুব সমাজকে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যুব সমাজ বেকার ভাতা চায়নি, তারা ন্যায় বিচার চায়, অধিকার চায়, মানবিক বাংলাদেশ চায়।
ঢাকা-১০ আসনের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জনগণকে ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে এবং দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে ন্যায়-ইনসাফের এক মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ইতোমধ্যে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জসীম উদ্দীন সরকার এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানও জনসভায় উপস্থিত থেকে ভোটারদের ন্যায়বিচার ও দেশপ্রেমের ভিত্তিতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
জামায়াত আমির বলেন, দেশকে পচা রাজনীতি থেকে মুক্ত করতে হবে, দেশের মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং যুব সমাজকে মানবিক ও দক্ষভাবে গড়ে তুলতে হবে। এগুলো অর্জনের জন্য জনগণকে দায়িত্বশীল ও সচেতনভাবে ভোট দিতে হবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি