ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরানে পৃথক দুটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। দেশটির দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঘটে যাওয়া এই বিস্ফোরণগুলোতে আহত হয়েছেন আরও অনেকে। স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক ধারণা, গ্যাস লিক থেকেই জমে থাকা গ্যাসে এসব বিস্ফোরণ ঘটেছে।
ইরানের আধা-সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, প্রথম বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে উপসাগরীয় উপকূলবর্তী দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বন্দর আব্বাসে। সেখানে একটি আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণে একজন নিহত এবং অন্তত ১৪ জন আহত হন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনের দুটি তলা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। পাশাপাশি আশপাশের বেশ কয়েকটি দোকান ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্দর আব্বাসের মোআল্লেম বুলেভার্ড এলাকায় অবস্থিত আটতলা ওই ভবনটিতে হঠাৎ করেই বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো।
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের প্রধান মোহাম্মদ আমিন লিয়াকাত জানান, প্রাথমিক তদন্তে গ্যাস লিক হয়ে বিস্ফোরণের সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে হচ্ছে। মেহের বার্তাসংস্থায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জানানো হবে।
আঞ্চলিক কর্মকর্তা মেহরদাদ হাসানজাদেহ জানান, আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ও ইরাক সীমান্তবর্তী শহর আহভাজেও আরেকটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তেহরান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিয়ানশাহর এলাকার একটি আবাসিক ভবনে গ্যাস বিস্ফোরণে চারজন নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এই বিস্ফোরণগুলোর সময়কাল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের চাপ অব্যাহত রয়েছে। ফলে দেশটির সামগ্রিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে নানা জল্পনা দেখা দিয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজব নাকচ করে আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, বন্দর আব্বাসের বিস্ফোরণে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনীর কোনো কমান্ডারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার দাবি করেছেন, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ইরানে একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন করে আন্তর্জাতিক নজর কেড়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম