খুলনা প্রতিনিধি: উত্তরাঞ্চলে তিন দিনের নির্বাচনী সফর শেষ করে আজ সোমবার খুলনা ও যশোরে দুটি নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সকালের প্রথম দিকে ঢাকার কোটবাগান হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকা ছাড়বেন তিনি এবং দুপুর ১২টায় খুলনার খালিশপুর প্রভাতি হাই স্কুল মাঠে প্রথম সমাবেশে অংশ নেবেন। সমাবেশ শেষে দুপুর দেড়টার দিকে হেলিকপ্টারে যশোরের উদ্দেশে রওনা হবেন।
বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল গতকাল রবিবার দুপুরে খুলনার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, খুলনা সমাবেশে শুধু খুলনা নয়, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার বিএনপি সংসদ সদস্য প্রার্থীরাও উপস্থিত থাকবেন। তিনি বলেন, সমাবেশে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি খুলনা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের রূপরেখা আলোচনায় আনা হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন আরও বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা—জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা এবং সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনি।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, খুলনার শিল্পাঞ্চলে কর্মরত শ্রমিকদের সমস্যার কথা শোনার জন্য সমাবেশটি আয়োজন করা হয়েছে। তারেক রহমান এই জনসমাবেশে বন্ধ মিল-কারখানা পুনরায় চালু, যুবসমাজের কর্মসংস্থান, উপকূলীয় অঞ্চলের টেকসই বেড়িবাঁধ, গ্যাস সংযোগ, মোংলা বন্দর উন্নয়নসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন।
সমাবেশের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করতে ছয়টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে, যেগুলো সমন্বয়, আবাসন, শৃঙ্খলা, মিডিয়া, নিরাপত্তা ও প্রচারণা কার্যক্রম দেখভাল করবে। মঞ্চ নির্মাণ ও আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম ইতিমধ্যেই ঢাকার থেকে আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, খুলনা সমাবেশ থেকে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার ১৪টি আসনের বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। এরপর তিনি যশোরের উদ্দেশে রওনা হবেন। যশোরের সমাবেশ উপশহর কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে, যা জনসভার সুবিধা ও যানজট বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই সমাবেশে যশোরসহ সাত জেলার বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।
গতকাল রবিবার যশোর প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর-৩ আসনের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, মাত্র দুই দিনের নোটিশে এত বড় সমাবেশ আয়োজনের জন্য নেতাকর্মীরা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। আশা করা হচ্ছে, এটি যশোরে বিএনপির সর্ববৃহৎ জনসমাবেশে পরিণত হবে।
আইন-শৃঙ্খলা বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, সমাবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সমাবেশ সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুতি চলমান।
দলীয় সূত্র জানায়, যশোর সমাবেশ শেষে বিকেলেই হেলিকপ্টারে ঢাকা ফিরে যাবেন তারেক রহমান।