খুলনা প্রতিনিধি: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল নারীদের নিয়ে এমন বাজে ও অশালীন ভাষায় কথা বলে, যা মুখে আনা যায় না। যারা নারীদের সম্মান করে না, তারা কখনো দেশ বা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনার খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় ৩৫ মিনিটের বক্তব্যে তিনি দেশ পুনর্গঠন, নারী নেতৃত্বের বিকাশ, শিল্পাঞ্চল পুনরুজ্জীবন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, বিদায়ী সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীরা গুম, খুন, গায়েবি মামলা, গ্রেপ্তার ও হামলার শিকার হয়েছেন। সে সময় দেশের প্রায় ১৬ কোটি মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি, মত প্রকাশের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত ছিল। রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণ সেই সরকারকে বিদায় করেছে। এখন সময় এসেছে অধিকার আদায় ও প্রতিষ্ঠার।
তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারলে বিএনপির প্রথম কাজ হবে দেশ পুনর্গঠন। তবে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী সমাজকে পেছনে রেখে কোনোভাবেই দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী সমাজকে এগিয়ে নিতে মেয়েদের স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন।
একটি রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, তারা নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায় এবং নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না। সম্প্রতি কর্মজীবী নারীদের নিয়ে করা আপত্তিকর মন্তব্য তারই প্রমাণ। সমালোচনার মুখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাক হওয়ার দাবি করা হলেও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এমনটা হওয়া অসম্ভব। এসব বক্তব্য মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ ভালো জীবনযাপনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। সংসার চালাতে অনেক ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই সমানভাবে কাজ করতে হয়। অথচ একটি দল চায় নারীদের কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে রাখতে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্ত্রী খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। শুরু থেকেই নারীরা সমাজ ও অর্থনীতিতে ভূমিকা রেখে আসছে।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগেই একটি দল দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অপমান ও হেয় করছে। তারা ধর্মকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। যে দলের কাছে নারীরা নিরাপদ নয়, সেই দলের কাছে দেশও নিরাপদ নয় ১৯৭১ সালেও দেশবাসী সেই বাস্তবতা দেখেছে।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে খুলনার মৃৎশিল্প ও শিল্পাঞ্চল পুনরুদ্ধার, তরুণদের জন্য আইটি পার্ক স্থাপন এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর ঘোষণা দেন তিনি। কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ, বীজ ও সার সরবরাহ করা হবে এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে বলে জানান।
তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, নারীদের স্বাবলম্বী করা এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সহনশীল করতে পারলেই বিএনপি সফল হবে এবং দেশ পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে যাবে।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে এবং ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা হয়েছে। বিএনপি সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চায়।
শেষে তিনি বলেন, গত এক যুগ ধরে জনগণ যে বঞ্চনা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, বিএনপি সরকারে গেলে তার পুনরাবৃত্তি হবে না। শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বাংলাদেশ উপহার দেওয়া হবে। ষড়যন্ত্র এখনো চলছে তাই সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে যেকোনো মূল্যে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি