স্টাফ রিপোর্টার: রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণে সক্ষম হলেও সময়মতো আদায়ে দুর্বল এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, সঠিকভাবে গ্রাহক নির্বাচন করে ঋণ দিলে খেলাপির ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আইসিসিবি–তে সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় গভর্নর এসব কথা বলেন।
ড. মনসুর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা বিধিনিষেধের কারণে সরকারি ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে ঋণ বিতরণ করছে। ফলে তারা সক্ষম হলেও আদায়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছে না। অতীতে ঋণের প্রবাহও সংকুচিত ছিল, যা টেকসই নয়।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংক আমানত সংগ্রহ করলেও যদি তা অর্থনীতিতে কার্যকর অবদান রাখতে না পারে, তা সীমিত হয়। এখন সময় এসেছে আরও সাহসীভাবে ঋণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের।
গভর্নর উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিকভাবে কনজিউমার ও হাউজ লেন্ডিং গুরুত্বপূর্ণ হলেও দেশের সরকারি ব্যাংকগুলো এ খাতে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে না। তিনি বলেন, বিশেষ করে কনজিউমার লেন্ডিংয়ে বড় সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অগ্রগতি সীমিত। এখানে বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
সোনালী ব্যাংককে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ব্যাংকে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটি আংশিকভাবে কমার্শিয়াল নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে। এটিকে বিস্তৃতভাবে পরিচালনা করে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে।
গত বছরের মুনাফার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই আয় ব্যাংকের মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতে ব্যাংক লভ্যাংশ দিতে সক্ষম হবে।
ড. মনসুর বলেন, সরকার সোনালী ব্যাংককে প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক নীতিতে পরিচালনার স্বাধীনতা দেবে এবং পরবর্তী সরকারও এটি অব্যাহত রাখবে। তিনি রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ব্যাংককে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
খেলাপি ঋণ (এনপিএল) নিয়েও গভর্নর আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ হার ইতিমধ্যে ১৮ শতাংশ থেকে কমেছে এবং আরও কমবে বলে আশা করা যায়। তবে এ জন্য ঋণ বিতরণ বাড়ানো জরুরি।
অবশেষে তিনি বলেন, ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্কতা বজায় রাখতে হবে। মাঠ পর্যায়ের সক্ষম উদ্যোক্তা ও ভালো এসএমই গ্রাহকদের চিহ্নিত করতে হবে। রপ্তানি খাতে ব্যাংকের ভূমিকা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি