ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একমাত্র নারী মন্ত্রী হিন্দ কাবাওয়াত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তিনি কেবল প্রতীকী উপস্থিতির জন্য সরকারে যোগ দেননি। সমাজকল্যাণ ও শ্রমমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কাবাওয়াত বলেন, “আমি এখানে শোভাবর্ধনের জন্য আসিনি। আমি নিজেকে নারী বা সংখ্যালঘু হিসেবে নয়, একজন সিরীয় নাগরিক হিসেবেই দেখি।”
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহী বাহিনীর রাজধানী দখলের মধ্য দিয়ে আসাদ পরিবারের কয়েক দশকের শাসনের অবসানের পর গঠিত এই অন্তর্বর্তী সরকারে তিনিই একমাত্র নারী সদস্য। প্রথম দিন থেকেই তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন—মন্ত্রিসভায় কেন আর কোনো নারী নেই। প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা তাকে আশ্বাস দিলেও এখনো সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক সহিংসতা এবং সরকারি বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে কাবাওয়াত স্বীকার করেন, ক্রান্তিকালে সরকার কিছু ভুল করেছে। তবে তিনি বলেন, তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে অনেককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষ, এতিম ও বিধবা নারী, এবং নিখোঁজদের পরিবার—এই সবচেয়ে অরক্ষিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোই তার মূল অগ্রাধিকার। আলেপ্পো, ইদলিবসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় তাকে সরাসরি মাঠে কাজ করতে দেখা গেছে।
নারী নেতৃত্বের প্রশ্নে কাবাওয়াত খোলামেলা সমালোচনাও করেছেন। সাম্প্রতিক পরোক্ষ নির্বাচনে নারীদের মাত্র ৪ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ঐক্য ও কৌশলের অভাবেই নারীরা পিছিয়ে পড়েছেন।
আইনজীবী ও শান্তি আলোচক হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কাবাওয়াত মনে করেন, যুদ্ধ-পরবর্তী সিরিয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিশ্বাস পুনর্গঠন—সরকার ও জনগণের মধ্যে যেমন, তেমনি মানুষের সঙ্গে মানুষের মধ্যেও।
ব্যক্তিগত আবেগ লুকিয়ে না রেখে তিনি স্বীকার করেন, মানুষের দুর্দশা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তবে চোখের পানি মুছে তিনি আবার কাজে ফেরার প্রতিজ্ঞা করেন—“এটা নতুন দিনের শুরু। এখন কাজ করার সময়।” সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব