আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কুখ্যাত অর্থপতি জেফ্রি এপস্টেইন ও বিশ্বখ্যাত জাদুকর ডেভিড কপারফিল্ডের মধ্যে ‘খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ ছিল—এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) সম্প্রতি প্রকাশিত এপস্টেইন–সংক্রান্ত নতুন নথিতে। ২০০৭ সালের এফবিআই স্মারকে কপারফিল্ড ও এপস্টেইনের মধ্যে সম্ভাব্য ভুক্তভোগী আদান–প্রদান এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি আসক্তি ছিল কি না, তা নিয়ে আরও তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
এফবিআইয়ের ওই তদন্ত শুরু হয় সিয়াটলের এক নারী লেসি ক্যারলের অভিযোগের পর। তিনি দাবি করেন, কপারফিল্ড তাকে বাহামাসে নিজের ব্যক্তিগত দ্বীপে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন করেন। প্রায় দুই বছর তদন্তের পর ২০১০ সালে মামলাটি বন্ধ হয়ে যায় এবং কপারফিল্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়নি। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
নতুন নথিতে বলা হয়, কপারফিল্ডের তথাকথিত একটি ‘বিজনেস লিস্ট’-এ এমন নারীদের নাম ছিল, যাদের এপস্টেইনের মামলার সঙ্গেও যোগসূত্র পাওয়া গেছে। অভিযানে পাওয়া আলামতে কপারফিল্ডের শোতে এপস্টেইন ও তার অতিথিদের বিনা মূল্যে টিকিট দেওয়ার তথ্যও উঠে আসে। এ ছাড়া কপারফিল্ডের নথিতে দীর্ঘ সময়ের তথ্যঘাটতির বিষয়টি তদন্তকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এপস্টেইনের মৃত্যুর পর ২০১৯ সালের এক আংশিক গোপন এফবিআই স্মারকে দাবি করা হয়, কপারফিল্ড শোতে উপস্থিত কিশোরী ও তরুণীদের ব্যাকস্টেজে আনার নির্দেশ দিতেন এবং এপস্টেইনের নাম তদন্তে বারবার এসেছে। যদিও কপারফিল্ডের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি এপস্টেইনের বন্ধু নন—মাত্র কয়েকবারের পরিচিত।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে দ্য গার্ডিয়ান–এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ১৬ নারী কপারফিল্ডের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ তোলেন, যা তিনি অস্বীকার করেন। নতুন প্রকাশিত নথি এপস্টেইন–কপারফিল্ড সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি