দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বরগুনা-১ আসনে অতীতের সব সংসদ নির্বাচনেই জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বিরোধী দলগুলো। ফলে আসনটি বরাবরই একপেশে হিসেবেই বিবেচিত ছিল। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা। স্থানীয় ভোটারদের মতে, এই শূন্যতা পূরণে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বড় অংশের ভোট কার দিকে যাবে—তার ওপরই নির্ভর করছে চূড়ান্ত ফলাফল।
বরগুনা জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলি উল্লাহ, ১০ দলীয় জোট সমর্থিত খেলাফত মজলিসের দেয়ালঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসাইন এবং জাতীয় পার্টি (জেপি) মনোনীত বাইসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী জামাল হোসাইন।
স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাঠে চারজন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে ধানের শীষ ও হাতপাখা প্রতীকের মধ্যে। বিএনপি এ আসনে দীর্ঘদিনের পরাজয়ের ধারা ভাঙতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দলটির নেতাকর্মীরা গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত জোরালো প্রচার চালাচ্ছেন। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নৈতিকতা ও সুশাসনের বার্তা তুলে ধরে নিরপেক্ষ ও পরিবর্তনকামী ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।
বরগুনা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, এ আসনে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোট যদি একদিকে কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে ফলাফল সহজেই অনুমেয় হবে। তবে ভোট বিভক্ত হলে বা ভোটার উপস্থিতি কম হলে অল্প ভোটের ব্যবধানেই জয়-পরাজয় নির্ধারিত হতে পারে।
বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, বরগুনা-১ আসনের মানুষ পরিবর্তন চায়। নির্বাচিত হলে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করব।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলি উল্লাহ বলেন, ভোটাররা এখন সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজছে। আমরা দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের পক্ষে থাকা সব ভোটারের সমর্থন প্রত্যাশা করছি।
বরগুনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে।
সব মিলিয়ে বরগুনা-১ আসনে এবার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক চিত্র বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কার দিকে যাবে নির্ধারক ভোট—তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের দিন পর্যন্ত।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন