সিনিয়র রিপোর্টার: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগে রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনা করা হচ্ছে,এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ চলমান থাকলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীতে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, সরকারি ও আধা-সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত যেসব কর্মকর্তার প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা, তাদের সম্পর্কে বিভিন্ন বাহিনী তথ্য সংগ্রহ করছে। অথচ রাষ্ট্রীয় কোনো গোয়েন্দা সংস্থার এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করার আইনগত এখতিয়ার নেই। তাদের প্রাপ্ত তথ্যমতে, মধ্য ও উচ্চপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার সহায়তায় রাজনৈতিক মতাদর্শ যাচাই করে প্রিজাইডিং অফিসার নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, এর আগেও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে চাকরি ও পদোন্নতির নজির আমরা দেখেছি। এবার সেই একই প্রক্রিয়া প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগে প্রয়োগ করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকজন দায়িত্বে থাকলে নির্বাচন যে কারচুপিমুক্ত হবে না, সেটি স্পষ্ট।
এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, যারা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট দলকে সহযোগিতা করছেন না, তাদের নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন গভীর এক খাদের মধ্যে পড়ে গেছে। আমাদের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠালে তার কোনো উত্তর পাওয়া যায় না। অথচ বিএনপির কোনো প্রার্থীকে শোকজ করলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা প্রত্যাহার হয়ে যাচ্ছে। এতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ কিছু প্রতিষ্ঠান একটি নির্দিষ্ট দলকে সহায়তা করছে।
আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের মাঠ থেকে সরিয়ে দিয়ে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে একজন নির্দিষ্ট প্রার্থীকে বিজয়ী করা যায়।
তিনি নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় যেসব প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই তা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি