স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ৭ জুন সারাদেশে মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। কোরবানির এই ঈদকে ঘিরে ইতোমধ্যেই রাজধানীর বিভিন্ন অস্থায়ী ও স্থায়ী পশুর হাটগুলোতে দেশি গরু, ছাগল, ভেড়াসহ নানা ধরনের কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চল- যেমন রাজশাহী, কুষ্টিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, পটুয়াখালী, বরিশাল, ঝিনাইদহ, মাগুরা এবং ময়মনসিংহসহ নানা স্থান থেকে ব্যাপারীরা ট্রাকে করে গরু-ছাগল নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করছেন। রাজধানীর গাবতলী, শনির আখড়া, বসিলা, আমুলিয়া, কামরাঙ্গীরচরসহ ২১ টির বেশি স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী হাট বসানো হয়েছে।
বুধবার (৪ মে) রাজধানীর কয়েকটা হাট ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাপারীদের মধ্যে কেউ কেউ হাটে গরু নামিয়ে বিক্রির চেষ্টা করছেন, আবার কেউ কেউ ক্রেতাদের আগ্রহ বুঝে ট্রাকেই গরু প্রদর্শন করছেন।
ক্রেতা-দর্শনার্থীরা বলছেন, বাজার ঘুরে দাম কিছুটা বেশি মনে হলেও ভালোমানের গরু পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য বারের তুলনায় এবার হাটে প্রচুর ছোট থেকে মাঝারি সাইজের গরু বেশি আসছে বলে জানান তারা।
দর্শনার্থী আসাদুজ্জামান রিপোর্টার্স২৪-কে বলেন, এখনো কেনার সিদ্ধান্ত নেইনি, বাসার পাশে হাট তাই দেখতে আসলাম। এখনো যাচাই-বাছাই করছি, হয়তো ঈদের আগের দিন কিনতে পারি, আবার যদি এর আগেও পছন্দসই গরু পাওয়া যায় তাহলে নিয়ে নিবো।
অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, খামারিদের উৎপাদন এবার ভালো হওয়ায় বাজারে দেশি পশুর সরবরাহ অনেক বেশি। এতে একদিকে যেমন বিদেশি গরুর ওপর নির্ভরতা কমেছে, তেমনি দেশীয় খামারিরাও ন্যায্য দাম পাওয়ার আশা করছেন।
ময়মনসিংহ থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী মঞ্জু মিয়া বলেন, বছরজুড়ে গরু লালন-পালন করেছি। ঢাকায় এনে একটু ভালো দাম পেলে কষ্ট সার্থক হবে।
ভাটারা একশো ফিট গরুর হাটের ইজারাদার রফিকুল ইসলাম স্বপন বলেন, হাটে প্রচুর গরু আসছে। আজকে (বুধবার) বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। দামও সহনীয়। আশাকরি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিক্রি আরও বাড়বে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, হাট ব্যবস্থাপনায় এবার প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা। হাটগুলোতে থাকবে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা বুথ।
বিকাশ, নগদ, রকেটসহ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু থাকছে বেশ কিছু হাটে। নগদ টাকার ঝুঁকি কমাতে ক্রেতাদের এই সুবিধা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।
তবে হাটগুলোতে যাতায়াত, পশুর রাখা-খাওয়ার ব্যবস্থা এবং ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কিছু অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ট্রাক থেকে গরু নামানো এবং সেগুলো হাটে প্রবেশ করানো নিয়ে বেশ ভোগান্তিতে পড়ছেন ব্যাপারীরা।
এছাড়া কিছু অস্থায়ী হাটে এখনও পানি, পয়ঃনিষ্কাশন এবং পশুর বিশ্রামের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, হাটে পশুর আমদানি ও বিক্রি তত বাড়বে। বিশেষ করে ঈদের আগের দুইদিন রাজধানীর হাটগুলোতে সর্বোচ্চ ভিড় ও লেনদেন হয় বলে জানিয়েছেন হাট ইজারাদাররা।
তারা আশা করছেন, শেষ সময়ে চাহিদা অনুযায়ী পশুর সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই লাভ হবে।
রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ