এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক: ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে ১০ ফেব্রুয়ারি চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে সীমিত দৈর্ঘ্যের কাহিনিচিত্র ‘টিফিন বক্স’। নির্মাতা রাকায়েত রাব্বি লিখেছেন গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপ—আর টিফিন বক্সকে বানিয়েছেন প্রেম কথন-বাহক ও অনুভূতির নীরব সাক্ষী হিসেবে। অনুভবের অব্যক্ত প্রকাশেই যেন লুকানো প্রেম।
ছোট ফ্ল্যাশ ফিকশন ঘরানার এই কাহিনিচিত্রে খাদ্য-সৃষ্টি ও মানুষের অন্তর্লীন সম্পর্ককে কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। নির্মাতা রাকায়েত রাব্বি বলেন, খাবার কেবল শারীরিক চাহিদা নয়—এটি ভালোবাসারও অন্যতম অনুবাদ। বাঙালি সংস্কৃতিতে কাউকে খাওয়ানো বা খাবার ভাগ করে নেওয়া ভালোবাসার সবচেয়ে বিশুদ্ধ প্রকাশ। টিফিন বক্স এখানে শুধু মাধ্যম নয়; শহুরে ক্লান্ত বাস্তবতা থেকে চরিত্রদের স্বপ্নিল জগতে নিয়ে যায়।
কাহিনিচিত্রটিতে অভিনয় করেছেন রুকাইয়া জাহান চমক (মিতু চরিত্রে) ও প্রান্তর দস্তিদার (জাভেদ চরিত্রে)। প্রান্তর অভিনীত জাভেদ একজন পটু রন্ধনশিল্পী, যিনি রান্নার মাধ্যমেই অনুভূতি প্রকাশ করতে চান। প্রান্তর বলেন, চরিত্রটি মানুষকে সার্ভ করতে ভালোবাসে; ভালোবাসাও একধরনের সার্ভিং। রান্নার মধ্য দিয়েই সে নিজের অনুভূতি জানায়।অপরদিকে রুকাইয়া জাহান চমক বলেছেন, মিতু স্বাধীনচেতা সে নিজস্বভাবে বাঁচতে চায়; তবু এমন কিছু মানুষ আছে, যাদের প্রেমে না যেতেই পারা যায় না—এই জটিলতাই মিতুর চরিত্রকে মানুষের কাছাকাছি করে তুলবে।
টিফিন বক্সে আরও দেখা যাবে শারমিন সুলতানা ও টুনটুনি সোবহানকে—যারা গল্পের সহচরী আবহ আর পারিপার্শ্বিকতায় প্রাণ ভরেছেন। নির্মাতা রাকায়েতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শহরের কোলাহল ও একাকিত্বের ভেতর সাধারণ মানুষের সংযোগটাই তাঁর মূল উদ্বেগ; আর যেখানে যোগাযোগ দুর্বল—সেখানে খাবারই সহজ ও বোধগম্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
গল্প ও চিত্রনাট্যের ভেতর খাদ্য-চলনকে প্রেম-বাহক করে তোলার পাশাপাশি সামাজিক বাস্তবতার সূক্ষ্ম আভাসও রাখা হয়েছে—টিফিন বক্স এমন এক প্রতীক যা একই সাথে পায়খানা-রুটিন, কর্মজীবনে ক্লান্তি ও সকালের একান্ত সংলাপকেও জড়ো করে। রাকায়েত রাব্বি বলেন, ভালোবাসা আসলে এই নশ্বর জীবনের ফুরিয়ে যাওয়ার নিয়মের বিরুদ্ধে একধরনের বিদ্রোহ। যখন জীবনের স্বাদ তেতো হয়ে আসে, তখন কেবল ভালোবাসাই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে পারে।
ছবিটি প্রযোজনা করেছে আলফা-আই ও চরকি। নির্মাতা জানিয়েছেন, ‘টিফিন বক্স’ চরকির ফ্ল্যাশ ফিকশন সিরিজের অংশ—সংক্ষিপ্ত পটভূমি ও তীব্র আবেগ-চিত্রায়নের মধ্য দিয়ে দর্শকের মন মাতাতে তৈরী হয়েছে এটি। মুক্তি সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত ও দর্শক-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চরকির অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে বলেও জানান প্রযোজকরা।
শিল্পী ও নির্মাতা উভয়েই আশা প্রকাশ করেছেন, টিফিন বক্সের সরলতায় এবং খাবারের নীরব ভাষায় দর্শকরা পরিচিত এক আবেগ খুঁজে পাবেন—একটি প্রেম যা কথার চেয়ে কাজেই, পরিবেশনেই প্রকাশ পায়। অর্থাৎ অনুষঙ্গ-নাটক নয়, বরং নগর জীবনের ক্ষুদ্রতায় লুকানো মমতার বহিঃপ্রকাশ।
ফাল্গুনের এই মৌসুমে ভালোবাসা-ভিক্তিক গল্প খুঁজছেন যারা—তাদের জন্য ‘টিফিন বক্স’ হবে এক কোমল, বিষ্ময়ঘন ও খাঁটি অনুভূতির খোঁজের স্থান। নির্মাণপ্রক্রিয়া, অভিনয় ও কাহিনির সংমিশ্রণে এটি অনেক দর্শকের হৃদয়ে নিজ জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা রাখে।