স্টাফ রিপোর্টার:
ঈদুল আজহায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে টানা ১০ দিনের ছুটি। এ ছুটিকে কেন্দ্র করে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে রাজধানী ছাড়ছে লাখো মানুষ। ফলে ঢাকার প্রায় সব বাস টার্মিনাল, লঞ্চ ঘাট ও ট্রেন স্টেশনে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সকাল থেকেই মহাখালী, গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়। কিন্তু বাস না পেয়ে অনেককে বসে থাকতে হয়েছে সড়কের পাশে।
সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে, ফুটপাতে, এমনকি ডিভাইডারের ওপরে বসে আছেন মানুষজন। নারী ও শিশুরা বেশিরভাগই বসে ছিলেন। যাদের অনেকেই জানালেন, তাদের বাস ছাড়ার কথা ছিল সকাল আটটায়, কিন্তু এখনো বাসের দেখা নেই।
সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, সকাল থেকেই রাজধানীর উত্তরার আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের প্রায় প্রতিটি অংশেই থেমে থেমে যানজট। কোথাও কোথাও পুরোপুরি স্থবির হয়ে ছিল যান চলাচল। বিশেষ করে টঙ্গী, কলেজ গেট, গাজীপুর চৌরাস্তা ও বোর্ডবাজার এলাকায় ছিল তীব্র যানজট।
সড়কে গন্তব্যের বাস, ট্রাক ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। কিছু কিছু গাড়ি এক জায়গায় দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বাসের যাত্রীদের অনেককে বাস থেকে নেমে হেঁটেই সামনে এগোতেও দেখা যায়।
ময়মনসিংহগামী যাত্রী আফজাল হোসেন বলেন, সকাল সাতটার দিকে মহাখালী থেকে রওনা দিয়েছি। এখন সাড়ে নয়টা বাজে, অথচ এখনো চৌরাস্তা পার হতে পারিনি। যানজটে বসে থেকে পিঠে, কোমরে ব্যথা ধরে গেছে।
ট্রাকচালক নজরুল ইসলাম বলেন, গতকাল রাত তিনটায় চট্টগ্রাম থেকে মাল নিয়ে রওনা দিছি। ভোরেই ঢাকায় ঢুকে পড়ছি, কিন্তু এখনো গাজীপুর পার হতে পারছি না। এত জ্যাম আগে দেখি নাই।
ট্রাফিক পুলিশকে বিভিন্ন জায়গায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে দেখা যায়। টঙ্গী এলাকায় দায়িত্বরত এক ট্রাফিক সার্জেন্ট নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঈদের ছুটির শুরু আজকে। তাই ভোর থেকেই গাড়ির চাপ বেড়ে গেছে। গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্প কারখানা থেকেও অনেক গাড়ি বের হচ্ছে। সব মিলিয়ে সড়কে স্বাভাবিক গতি নেই।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নুরুল ইসলাম বলেন, আমি গাজীপুরে চাকরি করি, বাড়ি কিশোরগঞ্জ। আজকে ঈদের ছুটি শুরু, সকালেই রওনা দিয়েছি। কিন্তু এই জ্যামে পড়েই মনে হচ্ছে রাতে পৌঁছাতে পারব কি না সন্দেহ।
অন্যদিকে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজট আরও বাড়তে দেখা গেছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা। তারা জানান, বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহন এবং রাস্তার পাশে যাত্রী ওঠানামা যানজটের অন্যতম কারণ।
দুপুরের পর থেকে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের বাস কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘ ছুটির কারণে এবার যাত্রীর চাপ তুলনামূলক বেশি। ৪ ও ৫ জুন সবচেয়ে বেশি চাপ থাকবে বলেও জানান তারা।
অনেকে আগেই টিকিট কেটে রেখেছেন, তবে অনেকেই কাউন্টার থেকে কাউন্টারে ঘুরেও টিকিট পাচ্ছেন না। বরিশালগামী যাত্রী খলিল রহমান বলেন, পাঁচ-ছয়টা কাউন্টারে ঘুরেও টিকিট পেলাম না। ৬ তারিখ পর্যন্ত সব বিক্রি হয়ে গেছে।
দিনাজপুরগামী আমিন ইসলাম বলেন, ভালো পরিবহনের টিকিট পাচ্ছি না। তবে যেহেতু একা যাচ্ছি, যেভাবেই হোক পৌঁছাব।
সাকুরা পরিবহনের ম্যানেজার হেলাল উদ্দিন জানান, দুপুরের পর থেকেই চাপ বাড়ছে, রাতে তা আরও বাড়বে। ৬ জুন পর্যন্ত সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।
এস আর পরিবহনের আরিফ হোসেন বলেন, অনেকে টিকিট না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আগামীকাল গার্মেন্টস ছুটি হলে চাপ আরও বাড়বে।
হানিফ পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার মোশারফ হোসেন বলেন, যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত বাসের ব্যবস্থা নিয়েছি। এখনো শিডিউল ঠিক আছে, মহাসড়কেও বড় কোনো যানজট নেই।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব