স্পোর্টস ডেস্ক: টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৩ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। ব্যাট হাতে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৫৬ রান করেন উইকেটকিপার-ব্যাটার কুশল মেন্ডিস। ৪৩ বলের ইনিংসে তিনি মারেন ৫টি চার। তবে শ্রীলঙ্কার ইনিংসকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন মূলত কামিন্দু মেন্ডিস। ১৪তম ওভারে যখন তিনি ব্যাট করতে নামেন, তখন শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ৮৬ রান। সেখান থেকে ১৯ বলে ৪৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলকে ১৬০ পার করান কামিন্দু।
দীর্ঘ ৫৭ বলের বাউন্ডারি খরা কাটান তিনি একটি চোখধাঁধানো রিভার্স সুইপে। ১৭তম ওভারে তাঁর ব্যাটে আসে ২১ রান, যা ম্যাচের গতিপথ অনেকটাই বদলে দেয়। চারটি চার ও দুটি বিশাল ছক্কায় সাজানো ছিল তাঁর ইনিংস। তিনি আউট হওয়ার সময় শ্রীলঙ্কার ইনিংসে বাকি ছিল মাত্র ৮ বল, স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১৫৩।
জবাবে বোলিংয়ে নেমে কী ভয়াবহ চাপেই না পড়ে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা! ম্যাচের শেষ ছয় ওভারে আয়ারল্যান্ডের জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র ৬০ রান, হাতে তখনও ৮ উইকেট। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বড় অঘটনের আভাস স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। মনে হচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত হয়তো ইতিহাসই গড়ে ফেলবে আইরিশরা। কিন্তু সেখান থেকেই পুরোপুরি পথ হারায় আয়ারল্যান্ড। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে হারাতে শেষ পর্যন্ত অলআউট হয়ে যায় তারা। নাটকীয় সেই ধসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২০ রানের জয় তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা।
ব্যাট করতে নেমে আয়ারল্যান্ড ১৯.৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে থামে ১৪৩ রানে। লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ছিল আয়ারল্যান্ডের পক্ষেই। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে তারা তোলে ৪৫ রান। ধীরে ধীরে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় আইরিশ ব্যাটাররা। ১৩.৪ ওভারে দলীয় শতরান পূর্ণ করে তারা, তখন হারিয়েছে মাত্র দুটি উইকেট। কিন্তু ১৫তম ওভার থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরতে থাকে। এরপরের ছয় ওভারের প্রতিটিতেই উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। বিশেষ করে মহীশ তিকশানার করা ১৭তম ওভার ও মাতিশা পাতিরানার ২০তম ওভারে জোড়া উইকেট পড়ে আইরিশদের। মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ।
শ্রীলঙ্কার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন মহীশ তিকশানা ও অধিনায়ক ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা—দুজনেই নেন ৩টি করে উইকেট। পাতিরানা শিকার করেন ২টি উইকেট। দুষ্মন্ত চামিরা ও দুনিথ ভেল্লালাগে নেন একটি করে উইকেট।
এর আগে শ্রীলঙ্কার ইনিংসেও বড় ভূমিকা রেখেছিল আয়ারল্যান্ডের দুর্বল ফিল্ডিং। একের পর এক ক্যাচ মিসের খেসারত দিতে হয় তাদের। কুশল মেন্ডিস ও কামিন্দু মেন্ডিস—এই দুই ব্যাটার মিলেই ছিলেন আইরিশদের জন্য বড় মাথাব্যথা। এই দুজনসহ মোট ছয়টি সহজ ক্যাচ ফেলেন আয়ারল্যান্ডের ফিল্ডাররা, যার সুযোগে লঙ্কানরা দেড় শতাধিক রান তুলতে সক্ষম হয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৬৩/৬
(কুশল মেন্ডিস ৫৬*, কামিন্দু মেন্ডিস ৪৪, নিশাঙ্কা ২৪; ডকরেল ২/১৭, ম্যাকার্থি ২/৪০, ডেলানি ১/২৪, সার্ক অ্যাডাইর ১/৩৩)
আয়ারল্যান্ড: ১৯.৫ ওভারে ১৪৩
(হ্যারি টেক্টর ৪০, রস অ্যাডাইর ৩৪, টাকার ২১; তিকশানা ৩/২৩, হাসারাঙ্গা ৩/২৫, পাতিরানা ২/২৬, চামিরা ১/২৫, ভেল্লালাগে ১/২৮)
ফল: শ্রীলঙ্কা ২০ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: কামিন্দু মেন্ডিস