আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার শীর্ষ বিরোধী নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হুয়ান পাবলো গুয়ানিপাকে মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর ছেলে ও মাচাদো নিজে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার সরকারি প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গুয়ানিপার ছেলে রামোন গুয়ানিপা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, রোববার রাতে রাজধানী কারাকাসে তাঁর বাবাকে ১০ জন ভারী অস্ত্রধারী ব্যক্তি অপহরণ করেন। তাঁদের তিনি “সরকারি লোক” বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন,আমার বাবাকে আবার অপহরণ করা হয়েছে। আমি অবিলম্বে তাঁর জীবিত থাকার প্রমাণ দাবি করছি।
হুয়ান পাবলো গুয়ানিপা দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন এবং আট মাসের বেশি সময় কারাবন্দি ছিলেন। রোববার তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ভেনেজুয়েলার সরকার সম্প্রতি সাধারণ ক্ষমা আইন পাস এবং রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা আসে, বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে দীর্ঘদিনের শাসক নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার এক মাস পর।
তবে গুয়ানিপার মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ভেনেজুয়েলা সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
মারিয়া কোরিনা মাচাদো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গুয়ানিপার অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান। তিনি বলেন,সাধারণ পোশাক পরা ভারী অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা চারটি গাড়িতে এসে তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গেছে।
তিনি জানান, ঘটনাটি কারাকাসের লস চোরোস এলাকায় ঘটেছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই গুয়ানিপা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করে সাংবাদিক ও সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি অন্য রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির আহ্বান জানান এবং বর্তমান সরকারকে ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনে নিকোলাস মাদুরোর পুনর্নির্বাচনকে ব্যাপকভাবে কারচুপিপূর্ণ বলে মনে করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ তাঁর সরকারের বৈধতা স্বীকার করে না।
মুক্তির পর এক স্থানীয় অনলাইন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গুয়ানিপা বলেন, তিনি মাচাদোর সঙ্গে সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলেছেন এবং পরদিন আরও বিস্তারিত আলোচনা করার আশা করেছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করে আসছে, সমাজতান্ত্রিক সরকার ভিন্নমত দমনে পরিকল্পিতভাবে গ্রেপ্তার ও কারাবাসের পথ বেছে নেয়। সরকার অবশ্য রাজনৈতিক বন্দি রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, আটক ব্যক্তিরা সবাই ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত।
সরকারি হিসেবে, প্রায় ৯০০ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হলেও সময়সূচি স্পষ্ট নয়। অনেক ক্ষেত্রে আগের বছরগুলোর মুক্তিকেও এই সংখ্যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কতজনকে মুক্তি দেওয়া হবে বা তাঁদের পরিচয় কী সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তালিকাও প্রকাশ করা হয়নি।
মানবাধিকার সংগঠন ফোরো পেনাল জানিয়েছে, ৮ জানুয়ারি নতুন করে বন্দিমুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৮৩ জন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রোববার আরও ৩৫ জন মুক্তি পান, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিরোধী নেতা ফ্রেডি সুপারলানো ও আইনজীবী পারকিন্স রোচা দুজনই মাচাদোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
ফোরো পেনালের পরিচালক আলফ্রেদো রোমেরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, গুয়ানিপাকে কারা তুলে নিয়ে গেছে সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য তাঁদের কাছে নেই। রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এসসি