স্টাফ রিপোর্টার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নরসিংদী-2 আসনে জোট রাজনীতিতে দেখা দিয়েছে তীব্র উত্তেজনা। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ‘গাদ্দারি’র অভিযোগ এনে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় তুলেছেন সারোয়ার তুষার।
বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, নরসিংদী-২ আসনে জোটভুক্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় জোটের পরাজয় নিশ্চিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ৫৭ হাজার ৬৯৪ ভোট, দাঁড়িপাল্লা ৩৬ হাজার ৬৬৯ এবং শাপলা কলি প্রতীক ১৪ হাজার ৫৬৭ ভোট।
সারোয়ার তুষার লিখেছেন, জামায়াত প্রার্থী যদি জোটের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিতেন, ব্যালটে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না থাকত এবং তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা হতো তাহলে অন্তত ১০ থেকে ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে ১১ দলীয় জোট জয়ী হতে পারত। তার অভিযোগ, জোটের ভোট বিভক্ত হওয়ায় বিএনপির প্রার্থী ৬ হাজার ৪৫৮ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, পলাশে জোট কার্যকর না থাকায় অনেক সমর্থক ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন। পাশাপাশি দিনভর কেন্দ্রে বিএনপি নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, জোটের নিষ্ক্রিয়তা নির্বাচনী ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে। তার কড়া মন্তব্য আমজাদের এই গাদ্দারি বাংলাদেশ মনে রাখবে।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আবদুল মঈন খান, যিনি ৯২ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে শাপলা কলি প্রতীকে মনোনয়ন পান এনসিপি নেতা গোলাম সারোয়ার (সারোয়ার তুষার)। তবে জোটের আনুষ্ঠানিক প্রার্থীকে সমর্থন না দিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন আমজাদ হোসাইন।
এ নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে বিভক্তির প্রশ্ন সামনে এসেছে। সারোয়ার তুষার দাবি করেছেন, তাকে একইসঙ্গে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছে। তার মতে, ব্যালটে দাঁড়িপাল্লা না থাকলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত এবং তা দেশকে বিস্মিত করত।
পাশাপাশি তিনি স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, এনসিপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম