নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর সিনিয়র মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের পর হাতিয়ায় তার নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি তারেক রহমান–এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন।
শুক্রবার বিকেলে হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসছে,এমন কথা বলে কিছু লোকজন মানুষের বাড়িঘরে হামলা করছে। আজও ৫-৭ জনকে আহত করা হয়েছে। হাসপাতালে ১০০ জনের বেশি কর্মী ভর্তি রয়েছে। তাঁর দাবি, এখন পর্যন্ত ৪২৫টি বাড়িতে হামলা এবং প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। নির্বাচন-পূর্ব এমন তাণ্ডব হাতিয়ার মতো আর কোথাও হয়েছে কি না আমার জানা নেই, যোগ করেন তিনি।
নতুননির্বাচিত এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, আমি ঢাকায় গিয়ে প্রথমেই তারেক রহমানকে হাতিয়ার পরিস্থিতি জানাতে চেয়েছি। হাতিয়ায় যে তাণ্ডব চলছে, তা বন্ধ করা হবে কি না,এটাই জানতে চাই। দলের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে আনা হোক।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারে যেখানে উঠান বৈঠক, মিছিল-মিটিং করেছেন কিংবা যেসব বাড়িতে গিয়েছেন, সেসব বাড়ি চিহ্নিত করে হামলা করা হচ্ছে। আমাদের তিন-চারজন কর্মী মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। তাদের ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন অরাজকতা শুরু হয়েছে, বলেন তিনি।
ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হান্নান মাসউদ বলেন, এত কিছুর পরও মানুষ আমাকে ভোট দিতে কেন্দ্রে এসেছে। ৬০-৭০ শতাংশ ভোট পড়ার কথা থাকলেও ৪৭ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। প্রায় ৩৫ হাজার ভোটে আমি জয়ী হয়েছি। অনেক ভোটার ভয়ে কেন্দ্রে আসতে পারেননি। তিনি হাতিয়াকে শান্ত রাখতে এবং সন্ত্রাসমুক্ত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী মাহবুবের রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
এদিকে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, থানায় এখনো এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি