হাতিয়া প্রতিনিধি: শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার কারণে তিন সন্তানের এক জননীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত হতেই বিক্ষোভ-মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবী, এটি শুধুমাত্র একক ঘটনার নয়, বরং দেশের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড, দখলবাজি ও আগুন সন্ত্রাসের এক ধারাবাহিক অংশ।
এনসিপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে শনিবার রাতে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, ভোটের কারণে হাতিয়ায় ওই নারীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া নৃশংসতার প্রতিবাদে এবং সমগ্র দেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে দলটি কঠোর অবস্থান নেবে। পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, দল বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে জনগণের কাছে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধের গুরুত্ব তুলে ধরবে।
এদিন রাত ১১.৪৫ টায় বাংলামোটরের এনসিপি কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেন। মিছিলটি শাহবাগ অভিমুখে রওনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা নানা ধরণের স্লোগান দেন, যার মধ্যে রয়েছে—‘ধর্ষকদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘ধর্ষকদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘একদিনে ৩ খুন, তারেক জিয়ার অনেক গুণ’। স্লোগানগুলোতে স্পষ্টভাবে রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণের সচেতনতা ও প্রতিরোধের আহ্বান তুলে ধরা হয়েছে।
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র, কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। নেতারা বলেন, ভোটের অধিকার প্রয়োগ করার কারণে সাধারণ নাগরিকদের ওপর এই ধরনের সহিংসতা বরদাস্তযোগ্য নয়। তারা পুলিশের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
এনসিপির নেতা-কর্মীরা আরও বলেন, শুধু হাতিয়া নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, রাজনৈতিক দমন-নিপীড়ন এবং নাগরিকদের ওপর হামলার ঘটনা বিরাজ করছে। এই ধরনের নৃশংস ঘটনা বন্ধ করা না হলে গণতন্ত্র ও নিরাপদ ভোটাধিকারের ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মিছিলে অংশ নেওয়া এক নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা চাই যে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারুক, ভোটের পরে কোন মানুষ তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত না হোক। এই বিক্ষোভ আমাদের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ও ন্যায়বিচারের দাবির প্রতিফলন।
এদিকে, রাতভর বিক্ষোভ মিছিল চলাকালীন সময়ে পুলিশ পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখে এবং মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। এনসিপি ঘোষণা দিয়েছে, তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় এই ধরনের বিক্ষোভ ও সচেতনতা কর্মসূচি চালিয়ে যাবে যাতে ভোটাধিকার রক্ষার বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছায়।