বেনাপোল প্রতিনিধি: বিশ্ব ভালোবাসা দিবস (১৪ ফেব্রুয়ারি) ও ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী দিনে ফুলের রাজধানীখ্যাত যশোরের ঝিকরগাছার গদখালী-পানিসারা অঞ্চলের চাষি ও ব্যবসায়ীরা সাধারণত ফুলের বেচাকেনায় ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের কারণে বাজার বন্ধ থাকায় তারা বিক্রিতে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
গদখালীর বিভিন্ন ফুলের মাঠে রজনীগন্ধা, গ্লাডিউলাস, জারবেরা ও গোলাপের ফুল তারার মতো ফুটে থাকলেও নির্বাচনের কারণে চাষিরা এসব ফুল উঠাতে পারেননি। দু-একজন চাষি কোল্ডস্টোরেজে ফুল সংরক্ষণ করলেও, বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে সবচেয়ে বেশি চাহিদার গোলাপ বিক্রি করা সম্ভব হয়নি।
ফুলচাষি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার দুই বিঘা জমিতে জারবেরার প্রায় সাত হাজার ফুল বিক্রি করা যেত, কিন্তু বাজার বন্ধ থাকায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অন্যান্য ফুলও বিক্রি করা যায়নি।
শাহ জামাল যোগ করেন, গোলাপ ফুল একদিন পরপর উঠাতে হয়। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে দাম সবচেয়ে বেশি, কিন্তু এবছর ভোটের কারণে বিক্রি হয়নি।
এরশাদ আলী জানান, বাজার বন্ধ থাকায় গাঁদা ফুল গরু দিয়ে খাওয়াতে হয়েছে। গদখালী ফুলচাষি ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি মো. মনজুর আলম বলেন, মৌসুম শুরুতে ভালো দাম থাকলেও নির্বাচনের কারণে কয়েকদিন বেচাকেনা বন্ধ থাকায় চাষি ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
যশোর ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, ঋতুরাজ বসন্ত ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে শত কোটি টাকার ফুল বিক্রির প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাজার ও পরিবহন বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। ফেব্রুয়ারির সাত তারিখ থেকে সাধারণত বিক্রি শুরু হয়, কিন্তু ৯ তারিখ থেকে প্রশাসনের নির্দেশে বাজার বন্ধ থাকায় মাত্র তিন দিন বিক্রি করতে পেরেছেন। এতে কয়েক কোটি টাকার লোকসান হয়েছে।
ঝিকরগাছার গদখালী অঞ্চলে ৮০০ হেক্টর জমিতে ১১ প্রজাতির ফুল বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়। এই অঞ্চলের ছয় হাজার পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ ফুল চাষের সঙ্গে জড়িত। প্রতিবছর এখানে সাড়ে তিন থেকে চারশ’ কোটি টাকার ফুল উৎপাদিত হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম