নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক স্কুল শিক্ষককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম লিটন সরকার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জানুয়ারি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোর সময় প্রলোভন ও চাপ প্রয়োগ করে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ ওঠে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার একটি ভিডিও ধারণ করা হয়। সম্প্রতি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে মারধর করে। তারা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষককে হেফাজতে নিয়ে থানায় সোপর্দ করে।
অভিযুক্ত শিক্ষক লিটন সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক ব্যক্তি তার কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা আদায় করেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাহিমা আক্তার বলেন, তিনি স্কুলে এসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ঘটনাটি জানতে পারেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করা হয় এবং পুলিশ এসে শিক্ষককে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি