ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনিয়ে এসেছে। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার সময় ও কৌশল নিয়ে বৈঠক করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) থেকেই হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত থাকতে পারবে। তবে এখনো চূড়ান্ত নির্দেশ জারি হয়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, হোয়াইট হাউজ একই সঙ্গে দুটি দিক বিবেচনায় রাখছে—হামলা চালালে আঞ্চলিক উত্তেজনা কতটা বাড়তে পারে এবং সংযম দেখালে তার রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব কী হবে। ফলে আলোচনায় পরিবর্তন আসতে পারে, সিদ্ধান্তও পিছিয়ে যেতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান যদি জবাবে হামলা চালায়, তাহলে অভিযানের প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত কিছু সেনাকে সাময়িকভাবে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। এটি সামরিক প্রস্তুতির নিয়মিত অংশ বলেই দাবি তাদের।
এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শিগগিরই ইসরায়েল সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে সেখানে আলোচনা হতে পারে।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে “অনেক কারণ” রয়েছে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। সম্ভাব্য হামলা ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বিত হবে কি না এ বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
তিনি আরও দাবি করেন, গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান “খুবই সফল” ছিল এবং তেহরানের কর্মসূচি বড় ধাক্কা খেয়েছে। তার মতে, ইরানের উচিত দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln-সহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ ইরানের নিকটবর্তী অঞ্চলে মোতায়েন করেছে। আরেকটি রণতরী USS Gerald R. Ford মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে।
এ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবিতে একটি মার্কিন রণতরীকে সমুদ্রের তলদেশে ডুবে থাকতে দেখা যায়। খামেনি মন্তব্য করেন, যুদ্ধজাহাজ শক্তিশালী অস্ত্র হলেও এমন শক্তি আছে, যা তাকে সাগরের নিচে পাঠাতে পারে।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে মধ্যস্থতাপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠককে ওয়াশিংটন আংশিক অগ্রগতি বলে উল্লেখ করলেও এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে স্বীকার করেছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতা পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে—যা অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার খুব কাছাকাছি। যদিও ইরান দাবি করে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
সূত্র: সিবিএস
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম