রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আগে ক্ষমতাসীনদের নিজেদের ঋণ পরিশোধ নিশ্চিত করা উচিত। তার দাবি, বিএনপির প্রায় ৬২ শতাংশ নির্বাচিত সংসদ সদস্য কোনো না কোনোভাবে ঋণের সঙ্গে জড়িত।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বলা হলেও নিজেদের মন্ত্রিসভা ও সংসদ সদস্যদের ঋণ পরিশোধের বিষয়টি কবে নিশ্চিত করা হবে সেটাই এখন জনগণের প্রশ্ন।
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচন ছিল হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের ফসল। জনগণের প্রত্যাশা ছিল এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ গণতন্ত্রের পথে এগোবে, রাষ্ট্র সংস্কার সম্পন্ন হবে, ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত হবে এবং দুর্নীতিমুক্ত সুশাসনের ভিত্তি গড়ে উঠবে।
তবে বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হলেও ফলাফল নিয়ে কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে তারা ফলাফল মেনে নিয়েছেন এবং জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদকে কার্যকর করতে শপথ নিয়েছেন। কিন্তু সরকারি দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রিসভার গঠন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপি আহ্বায়ক। তার দাবি, নতুন মন্ত্রিসভায় জুলাইয়ের তারুণ্য শক্তির প্রতিফলন নেই। প্রায় ৬২ শতাংশ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ব্যবসায়ী যেখানে রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন ছিল। এসব ব্যবসায়ীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঋণখেলাপি রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
একটি বড় বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও হত্যা মামলার আসামির হাতে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। দলীয়ভাবে তিনি খুব গুরুত্বপূর্ণ কেউ না হলেও আর্থিক ও ব্যবসায়িক প্রভাবের কারণেই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম