আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাস্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেহরানকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি অর্থবহ চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রায় ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে দেশটি সামরিক হামলার মুখে পড়তে পারে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর উদ্বোধনী বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, গত বছরের জুনে ইরানের ওপর ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলাই গাজায় যুদ্ধবিরতির পথ প্রশস্ত করেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা না নিলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা আরও কঠিন হয়ে উঠত।
ট্রাম্প বলেন, এখন আমাদের হয়তো আরও এক ধাপ এগোতে হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। হয়তো আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাবো। আগামী প্রায় ১০ দিনের মধ্যেই তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। তার এই বক্তব্যে কূটনৈতিক সম্ভাবনা খোলা রাখলেও সামরিক বিকল্প যে টেবিলে রয়েছে, সেটিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এর আগে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, জেনেভায় অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনায় দুই পক্ষ ‘ভালো অগ্রগতি’ অর্জন করেছে। যদিও তিনি আলোচনার বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেননি, তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ—এসব ইস্যুই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
আলোচনার এই অগ্রগতির দাবি সত্ত্বেও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। সেখানে দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং ডজনখানেক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি—এই দ্বৈত কৌশলের মাধ্যমে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
বৃহস্পতিবারের বক্তব্যে ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার কূটনৈতিক উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ‘খুব ভালো বৈঠক’ করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের একটি অর্থবহ চুক্তি করতে হবে। না হলে খারাপ কিছু ঘটবে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী কয়েক দিন কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়তে পারে। চুক্তি হলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে; আর আলোচনা ভেস্তে গেলে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি সূত্র: আল-জাজিরা