চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, উৎসব এলে দাম বাড়বে—এই সংস্কৃতি বদলাতে হবে। বরং উৎসব-পার্বণে দাম কমানোর ইতিবাচক চর্চা গড়ে তুলতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় নগরের ঐতিহ্যবাহী পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ পরিদর্শন ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসক স্পষ্টভাবে জানান, রমজানকে কেন্দ্র করে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা ভোক্তা হয়রানি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে বলেন, খাতুনগঞ্জ দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার। এখান থেকে যদি মূল্য সহনীয় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে সারা দেশের বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বানও জানান তিনি।
পরিদর্শন শেষে খাতুনগঞ্জ, রিয়াজউদ্দিন ও বড়পুল এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এতে ১৪টি মামলায় মোট ২৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, রমজানজুড়ে নিয়মিত বাজার মনিটরিং অব্যাহত থাকবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর নিত্যপণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে রমজান শুরুর প্রাক্কালে কয়েকটি পণ্যের দাম হঠাৎ বাড়ায় প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়েছে। তিনি ব্যবসায়ীদের ‘ব্লেইম গেম’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ রশিদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাইকারি বাজার থেকে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পণ্য বিক্রির সময় রশিদে বিক্রেতার যোগাযোগ নম্বর সংযুক্ত রাখার নির্দেশ দেন তিনি, যাতে প্রয়োজনে তা যাচাই করা যায়। কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ নেই,—হুঁশিয়ারি দেন ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
বাজার পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি বা পণ্যের ঘাটতি আছে কি না জানতে চান। ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ নেই। তাঁদের দাবি, অনেক পণ্যের দাম কমেছে। তবে খুচরা ব্যবসায়ীদের একটি অংশের অভিযোগ, পাইকারি পর্যায়ে কিছু পণ্যের দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও প্রভাব পড়ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে ছোলা, চিনি, তেল ও খেজুরসহ কয়েকটি পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। রমজানের আগে চাহিদার তুলনায় বিপুল পরিমাণ ভোগ্যপণ্য আমদানি করা হলেও কিছু পণ্য গভীর সমুদ্রে লাইটার জাহাজে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সরকারের সতর্কবার্তার পর সেসব পণ্য খালাস করা হয়।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন–এর সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, রমজানে যাতে পণ্যের দাম না বাড়ে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছেন এবং তাঁরা প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেছেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুর রহমান মিন্টু জানান, গত বছরের তুলনায় অধিকাংশ পণ্যের দাম কমেছে; তবে যেসব পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গিয়েছিল, সেগুলোর কিছুটা সমন্বয় হয়েছে।
পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি