কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: মহাকাশ গবেষণায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর সরকারি মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির সাত শিক্ষার্থী অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল স্পেস সোসাইটি (এনএসএস) আয়োজিত ২০২৪ সালের ‘লিভিং ইন আ হেলদি স্পেস’ শীর্ষক বৈশ্বিক ডিজাইন প্রতিযোগিতায় দশম গ্রেডে ২৫২ দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে তারা। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে চাঁদে মানুষের বসবাসের উপায় নিয়ে তারা গবেষণা উপস্থাপন করেছে।
প্রতিবেদন তৈরি করেছে খাজা আতিফ আবিদ, তসলিম উদ্দিন, আরেফিন সিদ্দিকী, ওমর ফারুক আল সাবিত, তাওফিক আহমেদ, তাসলিম আহমেদ ও মুনতাসির রহমান বিশ্বাস। ন্যাশনাল স্পেস সোসাইটি ইতোমধ্যে তাদের ওয়েবসাইটে এই প্রতিবেদনের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পাঠিয়েছে।
প্রতিবেদনের নাম ‘অ্যা ভিশন অব হারমোনি, হেলথ অ্যান্ড প্রগেসেস’। এতে চাঁদে বসতি স্থাপনের জন্য থাকা-খাওয়া, চাষাবাদ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বৈজ্ঞানিক সমাধান তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানেও এটি একটি টেকসই দৃষ্টান্ত হবে।
খাজা আতিফ আবিদ জানান, ২০২৪ সালে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার্থীদের সাফল্য তাদের অনুপ্রাণিত করে এই গবেষণা দল গঠিত হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী চাঁদে প্রাথমিকভাবে ৭০ হাজার মানুষের বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ধীরে ধীরে এক লাখ ৩০ হাজার পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব। এই বসতি দুটি বৃহৎ ষড়্ভুজ কাঠামো এবং একটি কেন্দ্রীয় টাওয়ার নিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় অংশ শক্তি সরবরাহ, বায়ু নিয়ন্ত্রণ, পানি বণ্টন এবং তথ্য আদান-প্রদানের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
সাত শিক্ষার্থীর এই সাফল্যে বিদ্যালয়, শিক্ষক ও সহপাঠীরা উচ্ছ্বসিত। প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান বলেন, “আমাদের ছেলেরা নিরলস পরিশ্রম করে দেশ ও বিশ্বে সাফল্য অর্জন করেছে। এটি কোটচাঁদপুরবাসীর জন্য গর্বের বিষয়।”
কোটচাঁদপুরের ইউএনও এনামুল হাসান বলেন, “এ সাফল্য প্রমাণ করে আমাদের ছেলে-মেয়েরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে কতটা এগিয়ে গেছে। আমরা তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখব যাতে তারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।”
রিপোর্টার্স২৪/এসএন