স্টাফ রিপোর্টার: ভোলার দক্ষিণ ইউনিয়নের গহীন জঙ্গলে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৫শত বছরের পুরোনো মুঘল আমলের একটি প্রাচীন মসজিদ। নির্মাতা ও সঠিক ইতিহাস অজানা এই স্থাপনাটি বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের দাবি, চুন, সুরকি ও ইটের তৈরি দৃষ্টিনন্দন কারুকাজে নির্মিত প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতার এই স্থাপনাটি ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নিক সরকার।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর ধরে মসজিদটিতে কোনো নামাজ আদায় হয় না। একসঙ্গে প্রায় ৩০ জন মুসল্লির নামাজ পড়ার ব্যবস্থা থাকলেও অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে এটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মসজিদটিতে চারটি গম্বুজ, দুটি জানালা ও একটি দরজা ছিল। তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলোর বেশিরভাগই ভেঙে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভেতরে থাকা কিছু মূল্যবান সামগ্রীও চুরি হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নোমান বাজি ও অহিদ টনি জানান, ছোটোবেলা থেকেই তারা মসজিদটি দেখে আসছেন। তাদের পূর্বপুরুষেরাও এ মসজিদের কথা বলতেন, কিন্তু নির্মাণকাল বা নির্মাতার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
আরেক বাসিন্দা সোনিয়া আক্তার বলেন, “মসজিদের পাশে একটি কবর ছিল, সেটিও এখন আর নেই। শোনা যায়, ভেতরে স্বর্ণ-রূপা ছিল, যা মাটি খুঁড়ে কেউ নিয়ে গেছে।”
এলাকায় প্রচলিত রয়েছে, একসময় এখানে ‘নিগমন’ নামে এক রাজা বসবাস করতেন। তার বিশাল জমিদার বাড়ি ছিল মসজিদের পাশে। তেঁতুলিয়া নদী দিয়ে নৌকা চলাচল করত। ধারণা করা হয়, তিনিই প্রজাদের জন্য মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। যদিও ভোলার লিখিত ইতিহাসে এ তথ্যের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী সরকারের কাছে দ্রুত মসজিদটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সংস্কারের সময় বর্তমান নকশা ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
এ বিষয়ে ভোলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক এম. মাকসুদুর রহমান বলেন, “মসজিদটির কথা আমরা শুনেছি। এটি বহু বছরের পুরোনো। আবেদন করা হলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে সংরক্ষণে স্থানীয়দেরও এগিয়ে আসতে হবে।”
প্রায় পাঁচ শতকের ঐতিহ্য বহনকারী এ মসজিদটি যথাযথ সংরক্ষণ ও সংস্কার পেলে ভোলার অন্যতম দর্শনীয় স্থাপনায় পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব