শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুর সদর উপজেলার পাকুরিয়া ইউনিয়নের চৈতনখিলা পশ্চিম পাড়া সাতঘড়িয়া গ্রামে চোর সন্দেহে এক যুবককে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে ঝুলিয়ে পিটুনির অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালু মিয়ার ছেলে নিলু মিয়া (২৫) পাকুরিয়া ইউনিয়নের গনই মমিনাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, তাকে চুরির সন্দেহে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে ঝুলিয়ে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে তিনি শেরপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিলু মিয়ার মা অভিযোগ করে বলেন, আমার নিরপরাধ ছেলেটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধরে নিয়ে অন্যায়ভাবে মারধর করা হয়েছে। এখন সে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যারা আমার ছেলেকে চোর বানিয়ে এভাবে ঝুলিয়ে মারপিট করেছে, তারা নিজেরাই নেশাখোর ও চোর। আমি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এ ঘটনার ভিডিও শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে পাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো: জসিম উদ্দিন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, কোন তথ্য-প্রমাণ ছাড়া চুরির সন্দেহে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে এভাবে একজন মানুষকে পিটানো কোনভাবেই কাম্য নয়। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে ঘটনার নিন্দা জানান। কমেন্টে মো: ফোরকান রাজ লেখেন, বিষয়টা খুব খারাপ করেছে। ছেলেটা যদি চুরি করেও থাকে, তবে তাকে আইনের আওতায় দেওয়া যেত। এভাবে ঝুলানো ঠিক হয়নি।
সারোয়ার হোসেন লেখেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এ বিষয়ে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো সোহেল রানা বলেন, এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।