আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে লিবিয়া ও গ্রিস উপকূলে পৃথক ঘটনায় অন্তত আটজন আশ্রয়প্রার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির কাছে পাঁচজন এবং গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের উপকূলে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
লিবিয়ার উপকূলীয় শহর কাসর আল-আখইয়ারে শনিবার স্থানীয় বাসিন্দারা পাঁচটি মরদেহ দেখতে পান। কাসর আল-আখইয়ার থানার তদন্তপ্রধান হাসান আল-গাওয়িল জানান, মৃতরা সবাই কৃষ্ণাঙ্গ এবং তাদের মধ্যে দুজন নারী। তিনি বলেন, এলাকাবাসী একটি শিশুর মরদেহও ভেসে আসতে দেখেছিলেন, তবে ঢেউ সেটিকে আবার সাগরে ফিরিয়ে নেয়। মরদেহগুলো উদ্ধারে লিবিয়ান রেড ক্রিসেন্টকে জানানো হয়েছে। তার ধারণা, আরও মরদেহ ভেসে আসতে পারে।
কয়েক সপ্তাহ আগে International Organization for Migration জানায়, পশ্চিম ত্রিপোলির জুওয়ারা উপকূলে ৫৫ জন আরোহী নিয়ে যাওয়া একটি রাবার নৌকা ডুবে গেলে অন্তত ৫৩ জন নিহত বা নিখোঁজ হন; তাদের মধ্যে দুটি শিশু ছিল।
এদিকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে গ্রিস উপকূলে আরেকটি দুর্ঘটনায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার এবং অন্তত ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। Athens News Agency জানায়, অভিবাসনপ্রত্যাশী ও আশ্রয়প্রার্থীদের বহনকারী একটি কাঠের নৌকা ক্রিটের উপকূলে ডুবে যায়। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই মিশর ও সুদানের নাগরিক; তাদের মধ্যে চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
গ্রিক রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ERT জানিয়েছে, একটি বাণিজ্যিক জাহাজের সহায়তায় উদ্ধার প্রচেষ্টার সময় যাত্রীরা সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে গেলে নৌকাটি উল্টে যায়। গ্রিক কোস্টগার্ডের একজন মুখপাত্র জানান, চারটি টহল নৌকা, একটি বিমান এবং ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা Frontex-এর দুটি জাহাজ উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছে। জীবিতদের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকায় প্রায় ৫০ জন আরোহী ছিলেন। একই এলাকায় আরও একটি নৌকা শনাক্ত হলে পৃথক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
প্রতি বছর হাজারো মানুষ সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা করেন। ২০১১ সালে দীর্ঘদিনের শাসক Muammar Gaddafi-এর পতনের পর লিবিয়া অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিবিয়ায় অভিবাসীরা—এমনকি অল্পবয়সী মেয়েরাও—হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও গৃহদাসত্বের ঝুঁকিতে রয়েছেন। মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অভিবাসীবাহী নৌকা লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
United Nations High Commissioner for Refugees-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপগামী অন্তত ১৬ হাজার ৭৭০ জন আশ্রয়প্রার্থী ক্রিটে পৌঁছেছেন। একই বছরে গ্রিসের জলসীমায় ১০৭ জনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।
অভিবাসীদের আগমন বাড়তে থাকায় গত গ্রীষ্মে গ্রিসের রক্ষণশীল সরকার বিশেষ করে লিবিয়া থেকে আগতদের আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছিল।
ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর এ বিপজ্জনক পথ আবারও প্রাণহানির মর্মান্তিক চিত্র তুলে ধরল।আল জাজিরা প্রতিবেদন
রিপোর্টার্স২৪/এসসি