রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক:সাতক্ষীরার শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদী ও কপোতাক্ষ নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ, যুবদল ও জামায়াতের যুব বিভাগের স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর দাবি, রাত নামলেই চার-পাঁচটি কার্গো ও ১০-১২টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে ভাঙনকবলিত বিভিন্ন চর থেকে বালু তোলা হয়। প্রশাসনের অভিযানে সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও কিছুদিন পর আবার শুরু হয় কার্যক্রম।
আটুলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আকরাম হোসেন বলেন, মাসের পর মাস নদীর ঝাপা ও আশপাশের ভাঙনপ্রবণ এলাকা থেকে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদীভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে। পদ্মপুকুর ইউনিয়নের গলাটেপা খেয়াঘাট এলাকার রনজিৎ মণ্ডল জানান, প্রতিবছর ভাঙনের শিকার হচ্ছেন তারা। অব্যাহত বালু উত্তোলন চলতে থাকলে নতুন করে বসতভিটা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহমান বাবু, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুর এবং জামায়াতের যুব বিভাগের গাবুরা ইউনিয়ন সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত যৌথভাবে বালুমহালের ইজারা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। চলতি বাংলা ১৪৩২ সালে ভাঙনপ্রবণ হওয়ায় অধিকাংশ এলাকা বালুমহালের বাইরে রাখা হলেও আশাশুনি উপজেলার হিজলদিয়া মৌজার পাঁচ একর জায়গা বালুমহাল ঘোষণা করা হয়। তবে ওই সীমিত এলাকার অনুমতিকে পুঁজি করে বৃহত্তর এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইয়াছিন আরাফাতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুরের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে আব্দুর রহমান বাবু দাবি করেন, নির্ধারিত জায়গার বাইরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে না এবং কয়েকজন মিলে ব্যবসা করার বিষয়টি স্বীকার করেন।
বুড়িগোয়ালীনি নৌ-পুলিশের ওসি অহিদুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুজ্জাহান কনক জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পেলে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং নৌ-পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদার বলেন, বর্তমানে অনুমোদিত কোনো বালুমহাল নেই। যত্রতত্র বালু উত্তোলন নদীর গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন করছে এবং উপকূল রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়ছে। সূত্র: সমকাল
রিপোর্টার্স২৪/এসসি