রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আমি করিনি! ভাঙা ফুলদানি সামনে রেখে এমন অস্বীকার অনেক বাবা-মায়েরই চেনা দৃশ্য। তবে শিশু কেন মিথ্যা বলে, তা শুধুই খারাপ চরিত্রের পরিচয় নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বয়সভিত্তিক মানসিক বিকাশ, পরিবেশ ও পারিবারিক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
মিথ্যার মূল কারণ
১. ভয় থেকে মিথ্যা
শিশুদের অনেক সময় সত্য বললে শাস্তি হবে ভেবে তারা মিথ্যা বলে। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের মতে, কঠোর শাস্তিমূলক পরিবেশ শিশুদের সত্য কথা বলাকে নিরুৎসাহিত করে। শাস্তির বদলে খোলামেলা আলোচনা বেশি কার্যকর।
২. কল্পনা আর বাস্তবের সীমারেখা
ছোট শিশুদের কল্পনা ও বাস্তব আলাদা করা সবসময় সহজ নয়। চার-পাঁচ বছরের শিশুর “আমার বন্ধু ডাইনোসর” ধরনের গল্প কল্পনাশক্তির অংশ, ইচ্ছাকৃত মিথ্যা নয়। প্রি-স্কুল বয়সে কল্পনাপ্রবণ গল্প বলা স্বাভাবিক বিকাশের অংশ।
৩. মনোযোগ পাওয়ার চেষ্টা
পরিবারে নতুন ভাইবোন এলে বা বাবা-মা ব্যস্ত থাকলে শিশু অনুভব করতে পারে যে তাকে আলাদা করে দেখা হচ্ছে না। তখন অতিরঞ্জিত গল্প বা মিথ্যা বলা হয়ে ওঠে মনোযোগ পাওয়ার উপায়।
৪. আত্মরক্ষার কৌশল
স্কুলে খারাপ ফল বা বন্ধুর সঙ্গে ঝামলার কারণে শাস্তি ভেবে শিশুরা সত্য লুকাতে পারে। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন অনুযায়ী, অনিরাপদ বোধের কারণে মিথ্যা বলা একটি আত্মরক্ষামূলক আচরণ।
বাবা-মায়ের করণীয়
শিশুর মিথ্যা বলা অনেক সময় তার বেড়ে ওঠার অংশ। ভয় কমানো, কল্পনাকে সঠিকভাবে উৎসাহ দেওয়া এবং যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়াই সমস্যার সমাধান। তাই, ভেবে দেখুন আজ আপনার সন্তান যে গল্প বলছে, সেটি কি সত্যিই মিথ্যা, নাকি নিজের অনুভূতিটা বোঝানোর চেষ্টা?
সূত্র: আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস, হেলদি চিলড্রেন ডট অর্গ, আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, মায়ো ক্লিনিক
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম