রিপোর্টার্স ডেস্ক :
সাভারে চামড়া শিল্প নগরীতে কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে চরম অব্যবস্থাপনাসহ কারসাজির অভিযোগ করেছেন চামড়ার মৌসুমি ব্যবসায়ীসহ মাদ্রাসার শিক্ষকরা। ঈদের দিন থেকে রোববার (৮ জুন) সকাল ১০টা পর্যন্ত এ শিল্প নগরীতে প্রায় দুই হাজার ট্রাকে তিন লাখ পিস চামড়া এসেছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দামের যে অবস্থা, তাতে গাড়ি ভাড়াও উঠছেনা। আর ছয় ঘণ্টার মধ্যে চামড়া লবণ দেওয়ার কথা থাকলেও ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও দেওয়া হচ্ছে না।
সরকার দাম বেঁধে দেওয়ার পরও কম কেন জানতে চাইলে ট্যানারি মালিকদের ভাষ্য, চাহিদার অতিরিক্ত চামড়া এসেছে এবং নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ভালো দাম দিতে পারছেন না।
রোববার সরেজমিন, সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে এমন চিত্র দেখা গেছে। চামড়া লবণজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। এখনও অনেক ট্রাক অপেক্ষা করছে চামড়া খালাসের জন্য।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্ধারিত মূল্যে চামড়া নিচ্ছেন না মালিকরা। আগে থেকে যোগাযোগ করে আসা হলেও দাম পাওয়া যাচ্ছে না। সিন্ডিকেট করে তারা সময়ক্ষেপণ করছেন। সময় যতো গড়াচ্ছে, দামও ততো কম বলছেন মালিকরা।
তারা জানান এখন চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। অনেকেই ক্রেতাদের বাকিতে দিয়ে চলে যাচ্ছেন।
অপরদিকে চামড়া বিক্রেতারা বলেন, সরকার নির্ধারিত সবচেয়ে ছোট চামড়ার দাম হওয়ার কথা এক হাজার টাকা। অথচ ট্যানারির মালিকরা চামড়া কিনছেন বড় থেকে মাঝারি প্রতি পিস ৫০০ টাকায়।
কোনো সিন্ডিকেট না থাকার কথা জানিয়ে ট্যানারি মালিকরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় বেশি চামড়া এসেছে। গত বছরের চামড়া এখনও বিক্রি করতে পারিনি।
তাদের ভাষ্য, রপ্তানিতে ভাটা পড়েছে, বাজার নেই ইউরোপে। চায়না সিন্ডিকেটের কাছে তারা জিম্মি। ফলে বেশি দামে চামড়া কিনে তারা বিক্রি করতে পারবেন না। পাশাপাশি চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা ভালো দাম দিতে পারছেন না বলেও জানান।
তারা বলেন, ছয় ঘণ্টার মধ্যে চামড়ায় লবণ দেওয়ার কথা। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার হলেও লবণ না দেওয়ায় চামড়াগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে চামড়া নিলেও ভালো দাম দেওয়া সম্ভব না। কারণ এসব চামড়ার অনেকটা ফেলে দিতে হবে।
.
রিপোর্টার্স২৪/এস