আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দ্রুজবা পাইপলাইন ঘিরে বিরোধের জেরে ইউক্রেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করেছে স্লোভাকিয়া। সোমবার এ ঘোষণা দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো।
স্লোভাক সরকারের দাবি, ইউক্রেন দ্রুজবা পাইপলাইনের নিজস্ব অংশ সচল না রাখায় পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রাতিসলাভা জানিয়েছে, দ্রুত পাইপলাইন চালু না হলে ভবিষ্যতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
‘দ্রুজবা’ শব্দের অর্থ রুশ ভাষায় ‘মৈত্রী’। ১৯৬৪ সালে সাবেক সোভিয়েত আমলে নির্মিত এই পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়া থেকে ইউক্রেন, বেলারুশ, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও জার্মানিতে তেল সরবরাহ করা হতো।
গত ২৭ জানুয়ারি রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে ইউক্রেন পাইপলাইনটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ইউক্রেন অংশে পাইপলাইনটি অকার্যকর থাকায় হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রে রুশ তেল পৌঁছাচ্ছে না।
কিয়েভের দাবি, রুশ বাহিনীর হামলায় পাইপলাইনের ইউক্রেন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় মেরামত ছাড়া তেল পরিবহন সম্ভব নয়। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া।
প্রধানমন্ত্রী ফিকো অভিযোগ করেন, পাইপলাইন বন্ধ রেখে ইউক্রেন স্লোভাকিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্পর্কে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ স্বাভাবিক বিষয়। ইউক্রেনের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করেছি।”
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। যুদ্ধের শুরু থেকেই দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামো বারবার হামলার শিকার হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি পূরণে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে কিয়েভ। গত প্রায় দুই বছর ধরে স্লোভাকিয়া থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করছে ইউক্রেন।
এদিকে পাইপলাইন অচল থাকার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে হাঙ্গেরিও। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার শ্চিজার্তো জানিয়েছেন, ইউক্রেনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১০ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন আটকে দিয়েছে বুদাপেস্ট। পাইপলাইন মেরামতের অগ্রগতির সঙ্গে ঋণ ছাড়ের বিষয়টি সম্পৃক্ত থাকবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
দ্রুজবা পাইপলাইন ঘিরে এ বিরোধ ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নজর রয়েছে।
সূত্র: আরটি
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম