জামালপুর প্রতিনিধি: দেশের দরিদ্রতম উপজেলার মধ্যে অন্যতম জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা। এই উপজেলার বুক চিরে প্রবাহিত হচ্ছে যমুনা-ব্রহ্মপুত্রসহ বেশ কয়েকটি নদনদী।বন্যা ও নদীভাঙনের সঙ্গে সংগ্রাম করে বাঁচতে হয় উপজেলার পাঁচ লক্ষাধিক মানুষকে। এ কারণে উপজেলার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করেন।
দরিদ্র ও অসহায় মানুষের ঈদ আনন্দের জন্য প্রতিবছর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ভিজিডি অনুবিভাগ থেকে প্রতিটি পরিবারের অনুকূলে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে ১০ কেজি চাল (খাদ্য সহায়তা) দেওয়া হয়।
২০২৫ সালে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বরাদ্দ ছিল ৪৬.৬১০ মেট্রিক টন। এসব চাল উপজেলার ১২ ইউনিয়নের ৪৬ হাজার ৬১০টি অসহায়-দরিদ্র পরিবারের মাঝে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে ১০ কেজি করে বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বরাদ্দ কমে এসেছে চার ভাগের এক ভাগে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত ২২-০২-২০২৬ তারিখে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ভিজিডি অনুবিভাগ থেকে এ বছর মাত্র ১৩৮.৩৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ এসেছে, যা মাত্র ১৩ হাজার ৮৩৪টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা সম্ভব।
এতে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারের খাদ্যনিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার ৩২ হাজার ৭৭৬টি সুবিধাভোগী অসহায়-দরিদ্র পরিবার।
এমন সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অসহায়-দরিদ্র, নদীভাঙনকবলিত ও ছিন্নমূল মানুষরা।
উপজেলা ত্রাণ শাখা সূত্রে জানা যায়, গত ঈদে ৪৬ হাজার ৬১০টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দের স্থলে এবার বরাদ্দ এসেছে মাত্র ১৩ হাজার ৮৩৪টি কার্ড।
জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ঈদ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি পরিস্থিতি বিবেচনায় ভিজিএফ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে থাকে। উপজেলায় জনসংখ্যা, দরিদ্রতার হার ও দুর্যোগ পরিস্থিতি অনুযায়ী সুবিধাভোগীর সংখ্যা নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়।
১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত জামালপুর-২ আসন। ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৮২ হাজার ১০৩ জন। অথচ উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য বলছে, উপজেলার লোকসংখ্যা প্রায় তিন লাখ।
ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দপত্রে জনসংখ্যার ভিত্তিতে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, গত বছর যেখানে ৪৬ হাজার ৬১০টি কার্ড বরাদ্দ ছিল, সেখানে এ বছর কোনো হিসাবে তা নেমে এসেছে মাত্র ১৩ হাজারে।
উপজেলার বেলগাছ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, “গত বছর ৩ হাজার ৪৩৭টি কার্ড ছিল। এ বছর মাত্র ১ হাজার ৩২টি কার্ড পেয়েছি। আমার ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে গেছে যমুনা নদী। ফলে ৪০ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৩০ হাজারই নদীভাঙন ও বন্যাকবলিত অসহায়-দরিদ্র মানুষ। এই ১ হাজার কার্ড কাকে বাদ দিয়ে কাকে দেব—চিন্তা করে পারছি না।”
কুলকান্দী ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান আনিছ বলেন, “আমার ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা যমুনা নদীর গর্ভে। ফলে ৯০ ভাগ মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে। গত বছর আমার ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৬১০টি। এ বছর পেয়েছি মাত্র ৫৭৪টি কার্ড। মানুষকে কীভাবে বোঝাব, বুঝতে পারছি না।”
চিনাডুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম বলেন, “আমার ইউনিয়নের লোকসংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫টি ওয়ার্ড যমুনার গর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার মানুষ বাস্তুহারা ও অসহায়। গত বছর আমার ইউনিয়নে কার্ড ছিল ৪ হাজার ৩১৭টি। এ বছর পেয়েছি ১ হাজার ২৯৭টি। এই স্বল্প কার্ড কীভাবে বিতরণ করব জানি না।”
ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নামজুল হুসাইন বলেন, “বিষয়টি আমি এখনো অবগত নই।”
জামালপুর-2 (ইসলামপুর) আসনের সংসদ সদস্য এ.ই. সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, “বিষয়টি উপজেলা ত্রাণ শাখা বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস থেকে আমাকে এখনো জানানো হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আমি ত্রাণমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।”
রিপোর্টার্স২৪/এসএন