দৌলতপুর প্রতিনিধি: তুলা দেশের অন্যতম চাহিদানির্ভর অর্থকরী ফসল। আর এ অর্থকরী ফসল তুলা সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়ে থাকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে। এ অঞ্চলের তুলার আঁশের গুণগত মান ভালো হওয়ায় এই তুলার চাহিদাও বেশি। তুলার হাটে তুলা বিক্রয়ে ব্যস্ত এখন চাষীরা। তবে এ বছর তুলার ফলন সন্তোষজনক হলেও উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় দাম নিয়ে হতাশ তারা।
চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়া জেলায় প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের তুলার চাষ হয়েছে। যার সিংহভাগই চাষ হয়েছে সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলায়। এর মধ্যে রয়েছে হাইব্রিড জাতের রুপালি-১, হোয়াইট গোল্ড-১ ও হোয়াইট গোল্ড-২ জাতের তুলা। প্রতি বিঘা জমিতে তুলা চাষে চাষীদের খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। ফলন হচ্ছে বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১২ মণ। কোনো ক্ষেত্রে আরও বেশি। এবছর প্রতি মণ তুলা ৩ হাজার ৮৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গতবছরের চেয়ে কম। দীর্ঘমেয়াদি এ ফসলের উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাড়েনি তুলার দাম, বরং কমেছে। তাই দাম কমায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে দাম বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন চাষীরা।
দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ গ্রামের তুলা চাষী মোস্তাক আহমেদ বলেন, এ বছর সার ও কীটনাশকের দাম গত কয়েক বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। দীর্ঘমেয়াদি তুলার আবাদে বীজ বপন থেকে উত্তোলন পর্যন্ত সব ধরনের খরচই বেড়েছে। জমি থেকে তুলা সংগ্রহ করতে এ বছর প্রতি বিঘায় খরচ হচ্ছে প্রায় ৯ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে প্রতি বিঘা জমিতে তুলা চাষে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।
অপর তুলা চাষী নাহারুল ইসলাম বলেন, তুলা একটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল। প্রায় ৭-৮ মাস সময় লাগে এর ফলন পেতে। এবার বিঘাপ্রতি ১৫-১৬ মণ ফলনের সম্ভাবনা আছে। গত বছর প্রতি মণ ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছি, কিন্তু এবার মিলাররা ৩ হাজার ৮৪০ টাকা নির্ধারণ করেছেন। তিনি তুলার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আলমদিনা জিনিং মিলের কর্মকর্তা মো. ইমন হাসান জানান, কুষ্টিয়া তথা দৌলতপুর অঞ্চলের তুলার আঁশ ভালো হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারদর সমন্বয় করে মিল মালিক এবং ব্যবসায়ীরা তুলার দাম নির্ধারণ ও তুলা ক্রয় করে থাকেন। এ বছর প্রতি কেজি তুলার দাম ৯৬ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মণ তুলা ৩ হাজার ৮৪০ টাকা দরে কেনা হচ্ছে। হাটে বস্তাভর্তি তুলার আর্দ্রতা পরীক্ষা করে তুলা ক্রয় করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কুষ্টিয়া জেলার প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ আল মামুন জানান, জেলার দৌলতপুর, মিরপুর ও ভেড়ামারা এই তিন উপজেলায় তুলার চাষ হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে তুলার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে ২ হাজার ৪৩৪ হেক্টর জমিতে।
তিনি বলেন, জেলায় ২ হাজার ৫০ জন তুলা চাষীকে কৃষি প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে দৌলতপুরেই তুলা চাষীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এবছর কুষ্টিয়া জোনে প্রায় ১৫৫ কোটি টাকার তুলা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তুলা চাষীদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বীজ নির্ধারণ, বীজতলা রোগমুক্ত রাখতে চাষীদের কারিগরি পরামর্শ ও প্রণোদনা প্রদানসহ সার্বিক সহায়তা দিয়ে থাকে তুলা উন্নয়ন বিভাগ। আগামীতে কুষ্টিয়া জোনে চাষীদের জন্য প্রণোদনা আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।
তবে সব তুলা চাষীকে প্রণোদনার আওতায় এনে তুলার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হলে চাষীরা তুলা চাষে আরও আগ্রহী হবে এবং চাহিদানির্ভর তুলা চাষ বৃদ্ধি পাবে। ফলে সমৃদ্ধ হবে কৃষি।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন