ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণের তালিকাভুক্ত জমির ক্রয়-বিক্রয় ও খারিজ (নামজারি) সরকারি আদেশে বন্ধ থাকার কথা থাকলেও সেই আদেশ উপেক্ষা করে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে খারিজ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে চরঈশ্বদীয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অধিগ্রহণাধীন জমির খারিজ করাতে গেলে সরাসরি কিংবা দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রেখে হয়রানি করা হচ্ছে।
চরঈশ্বদীয়া গ্রামের শিমুলতলা এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, “চরঈশ্বদীয়া মৌজায় পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া আমার সাড়ে ৯ শতাংশ জমি খারিজ করতে এক লাখ টাকা দিতে হয়েছে।”
আরেক ভুক্তভোগী চরগোবদীয়া গ্রামের জসিম উদ্দিন বলেন, “তিন মাস ধরে অফিসে ঘুরেছি, কোনো কাজ হয়নি। পরে অফিসের এক লোকের সঙ্গে ২০ হাজার টাকায় কন্ট্রাক্ট করে খারিজ করাতে বাধ্য হয়েছি।”
অফিস কক্ষে মব তৈরির চেষ্টা:
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে গত মঙ্গলবার সকালে চরঈশ্বদীয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিসকক্ষের ভেতরেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, নায়েব আবুল কালাম আজাদ অভিযোগের জবাব না দিয়ে অফিসে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি ও স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীকে ডেকে এনে সাংবাদিককে ভয় দেখাতে মব তৈরির চেষ্টা করেন। এ সময় সাংবাদিকদের নানান হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর নায়েব আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এতে করে অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে জনমনে আরও প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি শুধু দুর্নীতির অভিযোগ নয়—এটি সরকারি আদেশ অমান্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের গুরুতর উদাহরণ। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট খারিজ নথি জব্দ ও যাচাই এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন