আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি দূতাবাসের কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, যারা দেশ ছাড়তে চান তারা যেন “আজই” তা করেন।
শুক্রবার সকাল ১০টা ২৪ মিনিটে মার্কিন মিশনের কর্মীদের পাঠানো এক ইমেইলে তিনি উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটনে যাওয়ার জন্য যে কোনো চালু ফ্লাইট নিশ্চিত করতে হবে। তবে “সবার আগে দ্রুত দেশ ত্যাগের পরিকল্পনা করা গুরুত্বপূর্ণ।” এ তথ্য জানিয়েছে The New York Times।
তিনি ইমেইলে আরও লেখেন, আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু যারা যেতে চান, তাদের উচিত দেরি না করে দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়া।
ইরানের হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে “বৈধ লক্ষ্যবস্তু” হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে তেহরান আগেই সতর্ক করেছে। এতে অঞ্চলে অবস্থানরত হাজার হাজার মার্কিন সেনা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।ইরান ইসরায়েলেও হামলার হুমকি দিয়েছে, ফলে নতুন করে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করা, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গুটিয়ে নেওয়া এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ইরান বলছে, তারা কেবল পারমাণবিক ইস্যু নিয়েই আলোচনা করবে এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের আলোচক দল ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলা এবং অবশিষ্ট সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের দাবি তুলতে পারে।
শুক্রবার ইরান জানায়, সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে তার “অতিরিক্ত দাবি” থেকে সরে আসতে হবে। যদিও আলোচনার পর কিছুটা আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, তবুও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।
উল্লেখ্য, গত জুনে ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালালে পূর্ববর্তী আলোচনা ভেস্তে যায় এবং ১২ দিনের সংঘাত শুরু হয়, যাতে যুক্তরাষ্ট্রও সীমিতভাবে অংশ নেয় এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালায়।
মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান উত্তেজনা নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি