জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী ইউনিয়নের গিলাবাড়ি থেকে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের উলিয়াবাজার পর্যন্ত যমুনা নদীর মাত্র ৫ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ না থাকায় প্রতিবছর বন্যায় প্লাবিত হয় ইসলামপুর ও মেলান্দহ উপজেলার অন্তত ৫০টি গ্রাম। হাজার হাজার একর ফসলি জমি তলিয়ে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হন দেড় লক্ষাধিক মানুষ।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৭ বছরে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যমুনার বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের নামে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের নামেও ব্যয় হয়েছে শত কোটি টাকা। কিন্তু চিনাডুলী ইউনিয়নের গিলাবাড়ি থেকে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের উলিয়াবাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা আজও অরক্ষিত রয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, নদীর পানি বাড়লেই ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী ও সদর ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম এবং মেলান্দহ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের আরও প্রায় ৩০টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়। প্রতি বছর ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।
তাদের অভিযোগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর উপজেলার শশারিয়াবাড়ি থেকে চিনাডুলী ইউনিয়নের সিংভাঙ্গা পর্যন্ত নামমাত্র বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হলেও গিলাবাড়ি থেকে উলিয়াবাজার পর্যন্ত অংশটি বাদ পড়ে গেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ডেবরাইপেচ এলাকার সাইদুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীর মুখে লাগাম দিতে এই ৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হলে দুই উপজেলার অন্তত ৫০টি গ্রাম বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবে।
সিংভাঙ্গা গ্রামের মকবুল হোসেনের অভিযোগ, বালুর বস্তা ডাম্পিংয়ের নামে সাড়ে ১৫ বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৭০০ কোটি টাকা তসরুপ হয়েছে। কিন্তু স্থায়ী বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি।
ইসলামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে কিছু অংশে বাঁধ নির্মাণ করা হলেও বরাদ্দের অভাবে গিলাবাড়ি থেকে উলিয়াবাজার পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকায় কাজ করা সম্ভব হয়নি।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙন অনেকাংশে রোধ করা গেছে। তবে যমুনার নাব্যতা কমে যাওয়ায় বর্ষায় হঠাৎ নদী ফুলে ওঠে, ফলে বিচ্ছিন্ন ভাঙন ও তীব্র বন্যা দেখা দেয়।
জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ.ই সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, যমুনা ভাঙন রোধ ও বন্যা প্রতিরোধে অতীতে যেমন কাজ করেছেন, তেমনি এখনো কাজ করতে বদ্ধপরিকর। তিনি জানান, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে পাঁচ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম