রিয়াদ হাসান : চার মাসের চিকিৎসা ও বিশ্রাম শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আগামী মঙ্গলবার (৬ মে) ঢাকায় পৌঁছাবেন। এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন তিনি। তার সঙ্গে থাকছেন দুই পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান (তারেক রহমানের স্ত্রী) এবং সৈয়দা শার্মিলা রহমান সিঁথি (আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী)।
রোববার (৪ মে) বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, দেশে ফিরে তার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথিকে নিয়ে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় উঠবেন দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে প্রস্তুত করা হয়েছে বাসভবনটি।
এদিকে আরেক পুত্রবধূ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ধানমন্ডিতে তার বাবার বাসায় অবস্থান করবেন। তবে বিভিন্ন মহলে তার নিরাপত্তা নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে।
জানা গেছে, পুলিশ জোবাইদা রহমানকে নিরাপত্তা দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জিয়া পরিবারের এই সদস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ৩০ এপ্রিল পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে চিঠিতে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়।
চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে- একজন সশস্ত্র গানম্যান, গাড়িসহ পুলিশ প্রটেকশন, বাসায় পুলিশ পাহারা এবং বাসায় আর্চওয়ে স্থাপন।
ডা. জোবাইদা রহমানের নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, জানতে চাইলে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে জানান, জোবাইদা রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার আমাদের একটি মিটিং রয়েছে। এ মিটিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হব, কীভাবে নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
গত ৩০ এপ্রিল আইজিপিকে দেওয়া বিএনপির চিঠিতে বলা হয়, জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে চিকিৎসা শেষে আগামী ৪ মে দেশের উদ্দেশে রওনা দেবেন। ডা. জোবাইদা রহমান তার সফরসঙ্গী হিসাবে দেশে আসবেন এবং ধানমন্ডিস্থ তার পিতার বাসায় অবস্থান করবেন। জিয়া পরিবারের সদস্য এবং তারেক রহমানের সহধর্মিণী হিসাবে জোবাইদা রহমানের জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। সে কারণে তার ঢাকাস্থ বাসায় অবস্থানকালীন এবং যাতায়াতের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।
ওই চিঠিতে একজন সশস্ত্র গানম্যান, গাড়িসহ পুলিশ প্রটেকশন, বাসায় পুলিশ পাহারা এবং বাসায় আর্চওয়ে স্থাপন করতে অনুরোধ করা হয়।
স্বামী তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনের উদ্দেশে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন ডা. জোবাইদা রহমান। এরপর একে একে ১৭টি বছর কেটে গেলেও দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। স্বামী তারেক রহমান ও একমাত্র সন্তান জায়মা রহমানকে নিয়ে লন্ডনে ছিলেন। অবশেষে শাশুড়ি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশে ফিরছেন জোবাইদা রহমান।
ডা. জোবাইদা রহমানের বাবা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান ছিলেন। এরশাদের সরকারের আমলে তিনি যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতাযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী জোবাইদা রহমানের চাচা।
১৯৯৫ সালে বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম হয়ে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেন। এর আগে আগে ১৯৯৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তারেক রাহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ২০০৮ সালে তারেক রহমানে সঙ্গে তিনি লন্ডন চলে যান। তিনি লন্ডনে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে এমসএসএস করেন। এই কৃতিত্বের জন্য লাভ করেন স্বর্ণপদক। বর্তমানে লন্ডনেই অবস্থান করছেন তিনি।
উল্লেখ্য, উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৭ জানুয়ারি কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে লন্ডন যান খালেদা জিয়া। লন্ডন ক্লিনিকে ১৭ দিন চিকিৎসার পর ছেলে তারেক রহমানের বাসায় ওঠেন তিনি। সেখানে থেকেই চিকিৎসা নেন তিনি।
বেগম জিয়ার সফরসঙ্গীদের মধ্যে আছেন চিকিৎসক ডা. জাহিদ হোসেন, উপদেষ্টা ডা. আমিনুল হক চৌধুরী, এপিএস মাসুদুর রহমান এবং দুই গৃহপরিচারিকা ফাতেমা বেগম ও রূপা হক।
রিপোর্টার্স২৪/এস