আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ-মিশন EUNAVFOR Aspides-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত কৌশলগত একটি সামুদ্রিক পথ। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত গ্যাস এই সরু জলপথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। সৌদি আরব, ইরান, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এ রুটের ওপর নির্ভরশীল।
ভৌগোলিকভাবে প্রণালীটি ওমান উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ প্রায় ৩৩ কিলোমিটার, যার মধ্যে জাহাজ চলাচলের জন্য নির্ধারিত নৌপথ আরও সংকীর্ণ। ফলে এখানে সামান্য উত্তেজনাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইইউ নৌ-মিশনের ওই কর্মকর্তা জানান, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক মহলে প্রণালী বন্ধের লিখিত নির্দেশনা জারি করেনি। তবে আইআরজিসির পক্ষ থেকে কার্যত জাহাজ চলাচল বন্ধের বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে, তাদের ওপর সামরিক হামলা হলে বা আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক নৌ-জোট ও আঞ্চলিক দেশগুলো হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে কি না, কিংবা কতদিন এ অবস্থা স্থায়ী হবে—সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি