রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা (রাহবার) কে হবেন- তা নিয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে Assembly of Experts (আলেমদের পরিষদ)। এই পরিষদই সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে নতুন নেতা বাছাই করবে।
এ পর্যন্ত আলোচনায় যে পাঁচজনের নাম সামনে এসেছে, তারা হলেন-
১. মোজতাবা খামেনি
৫৬ বছর বয়সী মোজতাবা খামেনি বর্তমান প্রয়াত নেতার দ্বিতীয় পুত্র। অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং আধাসামরিক বাসিজ বাহিনীর ওপর তার প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
তবে ইরানের শিয়া শাসনব্যবস্থায় বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকার প্রথা স্বীকৃত নয়। পাশাপাশি, তিনি উচ্চপর্যায়ের মারজা-ই-তাকলিদ মর্যাদার আলেম নন এবং আনুষ্ঠানিক সরকারি পদেও নেই, যা তার পথে বড় বাধা হতে পারে।
২. আলীরেজা আরাফি
৬৭ বছর বয়সী আলীরেজা আরাফি খামেনির আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। তিনি আলেমদের পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান এবং প্রভাবশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিল-এর সদস্য।
ইরানের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থারও প্রধান তিনি। তবে রাজনৈতিকভাবে খুব শক্তিশালী বা সামরিক-নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে তার দৃঢ় সম্পর্ক নেই।
৩. মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি
৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি কট্টরপন্থি ইসলামি আলেম হিসেবে পরিচিত। তিনি রক্ষণশীল আলেমদের মধ্যে প্রভাবশালী এবং পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র সমালোচক। বর্তমানে তিনি কোম শহরভিত্তিক একটি ধর্মীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।
তার কঠোর অবস্থান তাকে রক্ষণশীল গোষ্ঠীর সমর্থন এনে দিতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তা নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
৪. হাসান খোমেনি
৫০ বছর বয়সী হাসান খোমেনি ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি-র নাতি। বর্তমানে তিনি খোমেনির সমাধিসৌধের তত্ত্বাবধায়ক।
তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী মনোভাবের হিসেবে পরিচিত হলেও, সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর তার প্রভাব সীমিত।
৫. হাশেম হোসেইনি বুশেহরি
ষাটোর্ধ্ব হাশেম হোসেইনি বুশেহরি আলেম পরিষদের প্রথম উপ-চেয়ারম্যান এবং জ্যেষ্ঠ ইসলামি পণ্ডিত। খামেনির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তার সম্পর্ক তুলনামূলক দুর্বল।
নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য সমীকরণ
নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে ধর্মীয় মর্যাদা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, সামরিক বাহিনীর সমর্থন এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে আইআরজিসির অবস্থান এ প্রক্রিয়ায় নির্ণায়ক হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আলেমদের পরিষদ, যা ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় বড় প্রভাব ফেলবে।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে