আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) আকরোতিরি ঘাঁটিতে সন্দেহভাজন ইরানি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার মধ্যরাতে এই হামলা হয় বলে দ্বীপটির প্রেসিডেন্ট ও ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথমবার ঘাঁটিটি সরাসরি হামলার মুখে পড়ল।
সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোদুলিদেস জানান, ‘শাহেদ’ ধরনের একটি মানববিহীন ড্রোন স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৩ মিনিটে সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে, এতে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের সব সংশ্লিষ্ট সংস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। তবে সাইপ্রাস কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
ঘাঁটিটি যুক্তরাজ্যের সার্বভৌম সামরিক এলাকা হিসেবে বিবেচিত। সাইপ্রাস ১৯৬০ সালে স্বাধীন হওয়ার পরও যুক্তরাজ্য দুটি সামরিক ঘাঁটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে, যার একটি হলো আরএএফ আকরোতিরি। লিমাসল শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই ঘাঁটি অতীতে ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনে সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সম্প্রতি ঘোষণা দেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘প্রতিরক্ষামূলক হামলা’ চালাতে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে। তার এই সিদ্ধান্তের পরপরই হামলার ঘটনা ঘটল।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা “লাইভ পরিস্থিতি” মোকাবিলা করছে এবং ঘাঁটির নিরাপত্তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঘরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
রয়টার্সের সূত্র জানিয়েছে, দ্বিতীয় একটি ড্রোনও প্রতিহত করা হয়েছে। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, সাইপ্রাস সরাসরি লক্ষ্যবস্তু না হলেও, আমরা যেকোনো হুমকির মুখে আমাদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি।
এই হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেল। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ভূখণ্ডে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা সংঘাতের বিস্তৃত রূপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আল জাজিরা
রিপোর্টার্স২৪/এসসি