আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো।
দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে অবস্থিত ওই বিদ্যালয়টিতে হামলার ফলে অন্তত ১১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশরই বয়স অত্যন্ত কম। ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
সংস্থার মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো জ্ঞানচর্চার পবিত্র স্থান, যেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বিশেষ সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী। এই ধরনের হামলা কেবল প্রাণহানি ঘটায় না, বরং শিশুদের শিক্ষার মৌলিক অধিকারকেও বিপন্ন করে তোলে।
ইউনেস্কোর এই বিবৃতির পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন যে, তাঁরা বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার খবর সম্পর্কে অবগত আছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের ২৬০১ (২০২১) নম্বর প্রস্তাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইউনেস্কো জোর দিয়ে বলেছে যে, যেকোনো সামরিক সংঘাতের সময়েও স্কুল, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সমস্ত পক্ষের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সামরিক উত্তেজনা যেভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আঘাত হানছে, তা পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব