রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বর্তমান সংঘাতকে ‘অনন্তকাল ধরে চলা কোনো যুদ্ধ’ নয়, বরং আঞ্চলিক শান্তির ‘প্রবেশদ্বার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও নাকচ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ আরও প্রশস্ত করবে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে কাজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা একসঙ্গে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস এনেছিলাম।” তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আব্রাহাম অ্যাকর্ডস চারটি আরব দেশের সঙ্গে শান্তি চুক্তি নিশ্চিত করেছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতিতেও ইরানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান আরও নতুন চুক্তির সুযোগ তৈরি করবে।
সমালোচকদের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, “এটি কোনো অন্তহীন যুদ্ধ নয়; এটি শান্তির পথ। মানুষ যা বলছে, বাস্তবতা তার ঠিক উল্টো।”
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচির স্থাপনায় হামলার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি দাবি করেন, সময় খুবই সীমিত ছিল। তাঁর বক্তব্য, কয়েক মাসের মধ্যেই ইরানের স্থাপনাগুলো এমনভাবে সুরক্ষিত হয়ে উঠত যে সেগুলোতে আঘাত হানা প্রায় অসম্ভব হয়ে যেত।
নেতানিয়াহুর অভিযোগ, “আমরা তাদের পরমাণু ও মিসাইল সাইটে আঘাত করার পরও তারা শিক্ষা নেয়নি। তারা ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার ও নতুন স্থাপনা তৈরি করছিল, যা অচিরেই আমাদের নাগালের বাইরে চলে যেত।” তিনি সতর্ক করে বলেন, এখন ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকত না।
তবে এই সাক্ষাৎকার প্রকাশের সময়কে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সোমবার নেতানিয়াহুর কার্যালয় ও ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কমান্ডারের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলার দাবি করে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘জায়নিস্ট শাসনের অপরাধী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং ‘খেইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
যদিও নেতানিয়াহুর কার্যালয় এ দাবিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, রাজধানী জেরুজালেম-এ বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠার পরও কোনো ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অক্ষত রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তবে নেতানিয়াহুর ভাষ্য- এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ নয়, বরং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাসের সূচনা।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে