রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র ব্যয়ভার নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ সামনে আসতে শুরু করেছে। যদিও পেন্টাগন এখনো যুদ্ধের মোট খরচের আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করেনি, সামরিক বিশেষজ্ঞদের প্রাক্কলনে উঠে আসছে বিপুল অঙ্কের ব্যয়ের চিত্র।
আনাদোলু এজেন্সি-এর হিসাব অনুযায়ী, অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় খরচ হচ্ছে প্রায় ৩২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় সোয়া তিন কোটি ডলার)।
এর বাইরে বিমান পুনঃস্থাপন, এক ডজনের বেশি নৌযান মোতায়েন এবং আঞ্চলিক সামরিক সম্পদ সচল রাখার মতো প্রাক-আক্রমণ প্রস্তুতিতে অতিরিক্ত প্রায় ৬৩০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাঙ্ক স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো ক্রিস্টোফার পেবল আলজাজিরা-কে জানান, যুদ্ধের গতি ও ব্যবহৃত প্রতিটি অস্ত্রের উচ্চমূল্য বিবেচনায় মোট ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
অন্যদিকে সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি-এর তথ্য অনুযায়ী, ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’-এর মতো একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনায় প্রতিদিন গড়ে ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়। বর্তমানে পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরে একাধিক স্ট্রাইক গ্রুপ সক্রিয় থাকায় দৈনিক অপারেশনাল ব্যয় দ্রুত বাড়ছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক ব্যয়ের চেয়েও বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উন্নত অস্ত্রের মজুদ। পেবল সতর্ক করে বলেন, ইরান ও তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর আক্রমণ মোকাবিলায় যে হারে উচ্চগতির ইন্টারসেপ্টর ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে, তা দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা কঠিন। বর্তমান গতিতে অভিযান চলতে থাকলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রভান্ডার চাপে পড়তে পারে।
ফলে যুদ্ধের আর্থিক স্থায়িত্বের পাশাপাশি এখন কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে উন্নত গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের দ্রুত ফুরিয়ে আসা মজুদ। মধ্যপ্রাচ্যের এই ব্যয়বহুল ও বহুমাত্রিক সংঘাত কতদিন স্থায়ী হবে, তা অনিশ্চিত থাকায় ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারক মহলে প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে