আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের গতি ও পরিসর নতুন এক যুগের সূচনা করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতে বোমাবর্ষণ মানব সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেয়েও দ্রুত ঘটতে পারে, ফলে দায়িত্ব ও নৈতিকতার সীমা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক নৃতাত্ত্বিক কোম্পানির ‘ক্লড’ এআই মডেল ব্যবহার করা হয়েছে। এটি তথাকথিত ‘কিল চেইন’ বা লক্ষ্য শনাক্তকরণ থেকে হামলা কার্যকর করা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। এর ফলে জটিল সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে, যা গবেষকরা ‘ডিসিশন কমপ্রেশন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এআই মডেল লক্ষ্য শনাক্ত করে, অস্ত্রের সুপারিশ দেয় এবং হামলার আইনি ভিত্তিও যাচাই করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আগেও গাজায় এআই ব্যবহার করেছিল, তবে এবার ইরানের ওপর প্রথম ১২ ঘণ্টায় প্রায় ৯০০টি হামলা চালানো হয়েছে। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিই নিহত হয়েছেন।
নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ক্রেইগ জোনস বলেন, এআই মেশিন লক্ষ্য নির্ধারণে মানুষের চিন্তার গতির চেয়েও দ্রুত কাজ করছে। অতীতে যা করতে দিন বা সপ্তাহ লাগত, এখন তা মুহূর্তে সম্ভব।
এদিকে লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড লেসলি সতর্ক করেছেন, মানুষের চিন্তার ভার এআই বহন করলে ‘কগনিটিভ অব-লোডিং’ তৈরি হয়, যার ফলে সিদ্ধান্তের দায়বদ্ধতা ও নৈতিক বিবেচনার মানসিক দূরত্ব তৈরি হতে পারে।
শনিবার দক্ষিণ ইরানে একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৫ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশির ভাগ শিশু। জাতিসংঘ এই হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা এই ঘটনার তদন্ত করছে।
ইরানও তাদের সামরিক ব্যবস্থায় এআই ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছে, তবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের প্রোগ্রাম সীমিত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদিও এআই যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুততা ও সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তবে এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নৈতিকতা, দায়িত্ব ও মানবিক বিবেচনার জটিল প্রশ্ন।সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এসসি