স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের লতিফ ছাত্রাবাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২ মার্চ) রাত পৌনে ১টার দিকে লতিফ ছাত্রাবাসে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং রাত সোয়া ৩টার দিকে তা শেষ হয়।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে একটি মিছিল বের করে সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে বিচারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও একটি বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, লতিফ ছাত্রাবাসে দুই ছাত্রসংগঠন, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। রাত পৌনে ১টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হলেও রাত সোয়া ৩টার দিকে পুলিশের অভিযানের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতের সংখ্যা আনুমানিক ৮ থেকে ১০ জন।
তিনি আরও বলেন, লতিফ ছাত্রাবাসের কর্তৃত্ব নেওয়াসহ অন্যান্য কারণে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে পুলিশি অভিযানের সময় ভেতর থেকে কোনো দেশীয় অস্ত্র, যেমন লাঠিসোটা, ধারালো ছুরি-চাকু পাওয়া যায়নি। দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, লতিফ ছাত্রাবাসের সংঘর্ষের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে আজ ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। পাশাপাশি ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও অনুরূপ কর্মসূচি হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে লতিফ ছাত্রাবাসে রাতভর সংঘর্ষের ঘটনায় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
অপরদিকে লতিফ ছাত্রাবাসে সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাত পৌনে ২টা থেকে ভোর পর্যন্ত দুই পক্ষের আনুমানিক ১৩ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে হাসপাতালের ডিউটিরত গোয়েন্দা পুলিশের সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া ভোর আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে ডাকসু ভিপি হাসপাতালে উপস্থিত হন।
লতিফ ছাত্রাবাসে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন, ইমরান হোসেন, মারুফ মিয়া, নুরুল হক, আতিকুর রহমান, আরিফুল, আলামিন, সরোয়ার, সাইফ, শান্ত, নাঈম, শাহজালাল, আব্দুল্লাহ সাদিক ও গোলাম ওয়াহিদ।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. ফারুক বলেন, লতিফ ছাত্রাবাসের দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন ছাত্র প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে ভোরে ডাকসু ভিপি সাদিক কাইয়ুম হাসপাতালে এসে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিয়ে চলে যান।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব