আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-কে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশআদে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে ফারস নিউজের বরাতে লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এ তথ্য প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জানাজা শেষে খামেনির মরদেহ তার নিজ শহর মাশহাদে সমাহিত করা হবে। পাশাপাশি রাজধানী তেহরানে বড় পরিসরে গণশোক অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ফারস নিউজের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আয়োজক কমিটির কর্মকর্তারা রাজধানীতে সর্বসাধারণের অংশগ্রহণে একটি স্মরণসভার পরিকল্পনা করছেন। তবে জানাজা ও দাফনের সুনির্দিষ্ট তারিখ-সময় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। এ বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
এর আগে দুটি মার্কিন সূত্র ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইরানে চালানো ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার সময় খামেনি তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, ওই হামলায় খামেনি ও তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী নিহত হন।
নিহতদের মধ্যে সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিব আলি শামখানি এবং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোরের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।
ইরানি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, হামলার ঠিক আগে খামেনি একটি সুরক্ষিত স্থানে আলি শামখানি ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলি লারিজানির সঙ্গে বৈঠক করছিলেন।
এদিকে শনিবার খামেনির বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। প্রকাশিত ছবিতে তার প্রাসাদ সদৃশ বাসভবন ধসে পড়া এবং চারপাশ কালো হয়ে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে, যা বড় ধরনের বিস্ফোরণের ইঙ্গিত দেয়। তবে হামলার ধরন, ব্যবহৃত অস্ত্র কিংবা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর এ হামলার পর দেশটিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ ঘটনার প্রভাব নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি