আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েল-ইরান সংঘাত পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। টানা পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবে ইসরায়েল একাধিক স্থানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।
বুধবার ভোরে ইসরায়েলজুড়ে বিমান হামলার সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বেজে ওঠে। কর্তৃপক্ষ জানায়, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে এবং নাগরিকদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জেরুজালেম, তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে মানুষকে বাঙ্কারে ছুটতে দেখা যায়।
ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম জানিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যম বলছে, আকাশে প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পশ্চিম জেরুজালেমের কাছে অবস্থিত বেইট শেমেশ এলাকায় পড়ে। দুই দিন আগে একই এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নয়জন নিহত হয়েছিলেন।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলেও ইরানের হামলা ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আল-খারজ গভর্নরেটের আকাশসীমায় দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানায়, তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়া কয়েকটি ‘শত্রু উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তু’ ধ্বংস করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের রাজধানী তেহরানে বুধবার ভোর থেকে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা রাজধানীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বসিজের সংশ্লিষ্ট ভবন এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ডের স্থাপনা।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় দেশজুড়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন শহর—কারাজ ও ইসফাহানসহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের স্থল বাহিনী ‘যুদ্ধক্ষেত্রের অভিযানে’ অংশ নিয়েছে এবং প্রায় ২৩০টি ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে নৌ-অভিযান চালানোর কথাও উল্লেখ করেছে তারা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাত এক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দ্রুত প্রশমনের কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না; বরং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি