আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) কথিত ইরান ও ইরাক সীমান্তবর্তী কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করছে তাদেরকে অস্ত্র সরবরাহের জন্য, যাতে ইরানে সরকারবিরোধী বিদ্রোহকে শক্তিশালী করা যায়। এই তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।
এর আগে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান কুর্দিস্তানের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (কেডিপিআই) সভাপতি মুস্তফা হিজরির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
ইরানের কুর্দিরা দেশটির বৃহত্তম সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম। তাদের সংখ্যা প্রায় ৭–১২ মিলিয়ন, যা ইরানের মোট জনসংখ্যার ৮–১৫%। মূলত তারা উত্তর-পশ্চিম ইরানে, যেমন কুর্দিস্তান, কেরমানশাহ, পশ্চিম আজারবাইজান এবং ইলামের প্রদেশে বসবাস করে।
কুর্দি সশস্ত্র বাহিনী ইরানের বর্তমান শাসনবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। তারা মাটির উপর অবস্থান নেওয়া থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সহমতের আহ্বান পর্যন্ত নানা কর্মকাণ্ড করছে। সম্প্রতি এই গোষ্ঠীগুলো একটি জোট তৈরি করেছে এবং ইরান সরকারের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মাটির উপর অভিযান শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ইরান, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি সুবিধাগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে, সেই সঙ্গে কুর্দি সশস্ত্র বাহিনীর ওপরও আঘাত হানছে, সম্ভাব্য বিদ্রোহ রুখার জন্য।
একজন সিনিয়র কুর্দি কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) সিএনএনকে জানিয়েছেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তৈরি শক্তির শূন্যস্থান বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কুর্দি বাহিনী শিগগিরই ইরানের ধর্মীয় শাসক কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত সরকারের বিরুদ্ধে মাটির উপর অভিযান চালাতে পারে।
ইরানীয় সশস্ত্র কুর্দি গোষ্ঠী সমূহ
ইরানির কুর্দিরা প্রধানত সুন্নি মুসলিম এবং শিয়া শাসিত সরকারের বিরোধী শক্তি হিসেবে পরিচিত। ইরান ও ইরাক সীমান্তবর্তী বেশ কয়েকটি সশস্ত্র কুর্দি গোষ্ঠী কার্যক্রম চালাচ্ছে।
এই গোষ্ঠীসমূহ শিক্ষাব্যবস্থা, কর্মসংস্থান ও সেবায় বৈষম্যের শিকার হলেও সংবিধান অনুযায়ী সমানাধিকার প্রাপ্ত হওয়ার কথা। অধিকাংশ কুর্দি গোষ্ঠী স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতা চাইছে।
প্রধান দল ও সাম্প্রতিক জোট
ইরানে দীর্ঘদিনের কুর্দি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হলো ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইরানিয়ান কুর্দিস্তান (কেডিপিআই)। এটি ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং পেশমার্গা সৈন্যদের একটি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে।
এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও মার্কিন-ইরান সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব পড়তে পারে। এখনো সিআইএর সম্পূর্ণ পরিকল্পনা ও ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট নয়। হিন্দুস্থানস টাইমস
রিপোর্টার্স২৪/এসসি